মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে

আপডেট : ৩১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস চললেও শিক্ষার্থীরা রয়েছে ঘরে বন্দি। এর ফলে তাদের মধ্যে নানা রকম অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন মানসিক চাপে থাকার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন কিছু নির্দিষ্ট পরিচর্যা, যা অর্জিত হতে পারে শিক্ষার্থী ও পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টায়। শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে করণীয় নিয়ে লিখেছেন বিপুল জামান

             ঘরবন্দি এই সময়টায় দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন না করে বরং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। ঘুম, গোসল, খাওয়া, ব্যায়াম ও অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা ইত্যাদি সবকিছুই সঠিক সময়ে করতে হবে।

             সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমার মধ্যে রাখতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অবসর সময়ে একটু সময় ব্যয় মানসিক চাপ কমায় বটে কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে।

             সারা দিন যদি শিক্ষার্থীরা কেবল করোনা নিয়েই পড়ে থাকে এবং টিভি ও সংবাদমাধ্যমে তারা সংবাদ শুনতে ব্যস্ত থাকে, তবে সত্যিকারের ভাইরাসের আক্রমণের আগেই এক ধরনের তথ্য-ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই করোনার সংবাদে কোনোভাবেই আতঙ্কিত না হয়ে অন্যান্য কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।

             আতঙ্কিত না হয়ে বরং স্বাস্থ্য সচেতনতা অবলম্বন করে মনোবল শক্ত রাখতে হবে। করোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে মানসিক দিক থেকে সচেতন থাকতে হবে। তা ছাড়া মানসিকভাবে দুর্বল থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই মানসিকভাবে চাঙা থাকার চেষ্টা করতে হবে।

             শিক্ষার্থীরা এখন সম্পূর্ণ ঘরবন্দি অবস্থায় আছে। স্কুল চলাকালে তাদের যে রুটিন ছিল তা থেকে অনেকটাই মুক্ত। বাড়তি সময়ে কী করা যায় তা নিয়েও মনের ওপর চাপ তৈরি হয়। অলস সময় অনেকটাই কাটে করোনা নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করে। এ অবস্থায় তারা বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিলে মানসিকভাবে চাঙা থাকবে। তাই এ সময় শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বই পড়া ইত্যাদি কাজে উৎসাহ দিতে হবে।

             দীর্ঘসময় বাইরের পরিবেশ থেকে আলাদা থাকার কারণে একাকিত্ব বোধ হতে পারে, যা মনের ওপর প্রভাব ফেলে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সময় দিতে হবে। পরিবারের সবার সান্নিধ্য একাকিত্ব দূর হওয়ার অন্যতম উপায়।

             আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবারের বাইরে আত্মীয়স্বজন বন্ধু-বান্ধবরাই আমাদের মানসিক আশ্রয়। সরাসরি দেখা করা যেহেতু সম্ভব নয়, তাই ফোন, ইমেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ভিন্ন কোনো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।

             লেখাপড়া শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না থাকলেও অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস এবং ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট নিয়মিত করে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত