দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রথম তিন মাসে (গত বছর মার্চ-মে) করোনা মোকাবিলায় সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) ৩৫৪ কোটি টাকার কেনা সুরক্ষাসামগ্রীর (পিপিই, মাস্ক, পিসিআর মেশিন, পিসিআর কিটস ইত্যাদি) কোনো অর্থ এখনো পরিশোধ করেনি সরকার। সে সময় ৫৭ প্যাকেজে এসব সুরক্ষা, করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনা হয়। এর মধ্যে ৩৪৩ কোটি টাকা প্রায় এক বছর পর গত ১২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় সিএমএসডিকে সরবরাহকারীদের দেওয়ার জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সঠিক কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় সিএমএসডি সেই অর্থ সরবরাহকারীদের দিতে পারছে না। এসব কেনাকাটার মধ্যে গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকারকে পাঠানো করোনা সুরক্ষাসামগ্রীর প্রায় দুই কোটি টাকার বিলও রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিএমএসডির কর্মকর্তারা জানান, বিগত সিএমএসডি পরিচালক প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহম্মদ শহীদুল্লাহর সময় হওয়া এসব কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ এনে সে সময়ের সব ধরনের সরবরাহের বিল আটকে দেন বর্তমান পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। তার মূল অভিযোগ, এসব কেনাকাটায় বিধিবিধান ঠিকমতো অনুসরণ করা হয়নি।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে বিল পরিশোধের ব্যাপারে সিএমএসডিকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সিএমএসডির পক্ষ থেকে এ বছর তিনটি চিঠি দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এবং ২ ও ২৩ মে দেওয়া চিঠিতে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ, ব্যাখ্যা এবং সমাধানে নির্দেশনা চায় সিএমএসডি কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনো চিঠিরই কোনো উত্তর দেয়নি মন্ত্রণালয়।
এমনকি বিল দেওয়ার জন্য ৩৫৪ কোটি টাকার মধ্যে যে ৩৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ, তা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে মন্ত্রণালয় ও সিএমএসডির মধ্যে। একদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বলছেন, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে পিপিআর-২০০২ ও পিপিআর-২০০৮-এর সব বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে, তা না হলে টাকা খরচ করা যাবে না। অর্থাৎ তারা টাকা দেওয়ার শর্ত দিয়েছে পিপিআর অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু সিএমএসডি বলছে, পিপিআর অনুসরণ করে কেনাকাটা হয়নি। সুতরাং বিল দেওয়া সম্ভব নয়।
তাহলে এ সংকট সমাধানের পথ কী জানতে চাইলে সিএমএসডির বর্তমান পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে সর্বশেষ গত ২৩ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে, সিএমএসডি সেভাবেই কাজ করবে।’
সিএমএসডি কেন বিল দিচ্ছে না, তার সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি গত সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিএমএসডিতে এ পরিচালকের আগের পরিচালকের সময়কার কেনাকাটার ব্যাপারে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত করা হয়েছে। বিলের সব কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘৩৪৩ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে। সে বিল কেন দেওয়া হচ্ছে না, জানি না। এই টাকা তো সিএমএসডির কোডে দেওয়া হয়েছে। সিএমএসডির অর্থনৈতিক কোড আলাদা। আগে নিয়ম ছিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে টাকা আসত, সিএমএসডি টাকা চাইত। সিএমএসডিকে সেভাবেই টাকা দেওয়া হতো। বর্তমান পরিচালক আসার পর তিনি সিএমএসডির কোড আলাদা করে নিয়েছেন। কাজেই তারা কেন টাকা দিচ্ছেন না, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়াকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে গত সোমবার একটি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে শুরুর দিকে সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই, মাস্ক, গগলস, পিসিআর মেশিন, পিসিআর কিটস ইত্যাদি) সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল না। নিজেদের টাকা ব্যয় করে দ্রুততম সময়ে দেশের চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এসব সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করে সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে তারা। যেহেতু সরবরাহকারীরা সিএমএসডির নির্দেশে যেহেতু এগুলো সাপ্লাই দিয়েছে এবং সিএমএসডি এগুলো গ্রহণ ও ব্যবহার করেছে, তাই বিল অবশ্যই পাবে। তবে সরবরাহকারীরা এক বছরেও বিল পায়নি, বিষয়টি দুঃখজনক। দ্রুত এ বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি সমাধান হবে।
সিএমএসডির কর্মকর্তারা জানান, সিএমএসডির তৎকালীন পরিচালক প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ করোনা মোকাবিলায় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার সুরক্ষাসামগ্রী কেনার জন্য চিঠি লিখেছিলেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার ওপর কার্যাদেশ দিয়েছিলেন। সে সময় সিএমএসডিতে বাজেট ছিল ৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৫৪ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়েছে। তবে বিট রেভল্যুশন (বিআর) রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে ৩৪৪ কোটি টাকার।
কেন আটকে আছে বিল : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিএমএসডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সে সময় কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে এসব দপ্তরে পাঠানো বিভিন্ন চিঠি ও কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, সিএমএসডি বর্তমান পরিচালক দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই গত বছর ২০ জুন এসব কেনাকাটায় অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ এনে তদন্ত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানান। তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অডিট) মো. শাহাদত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি তদন্ত করে। কমিটি একটা রিপোর্টও দিয়েছিল মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে। কিন্তু সে রিপোর্টে কী আছে, সে রিপোর্ট অনুযায়ী মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ওই রিপোর্টে শাস্তির অংশে কী লেখা হয়েছে, তা জানানো হয়নি সিএমএসডি কর্র্তৃপক্ষকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমএসডির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গত সোমবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্টের একটি অংশে বলা ছিল পিপিআরের বিধান মেনে এসব কেনাকাটা করা হয়নি।’
বিল পরিশোধের ব্যাপারে এসব কর্মকর্তা জানান, বিল পরিশোধের ব্যাপারে এ বছর ৯ ফেব্রুয়ারি সিএমএসডি পরিচালক সরকারকে একটা চিঠি দেয়। সেখানে বলা হয় কেনাকাটায় আট ধরনের ঘাটতি আছে। ওই চিঠির আট নম্বর ঘাটতিতে উল্লেখ করা হয়েছে এসব কেনাকাটার জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দই ছিল না। বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই কেনাকাটা হয়েছে।
এসব কর্মকর্তা আরও জানান, যদি ৫০ কোটি টাকার ওপর কেনাকাটা হয়, তাহলে সেটা অনুমোদনের জন্য অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রিসভার (সিসিইএ) কমিটিতে যেতে হবে। সেই কমিটি প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার (সিসিজিপি) কমিটিতে যাবে। এ কমিটিতে যেতে হলে অবশ্যই বাজেট প্রবিশন বলতে হবে। যেহেতু বাজেট প্রবিশনই বলা হয়নি, বাজেট কোথায় থেকে আসবে এবং বাজেটও ছিল না; সেহেতু এটা সিসিইএ ও সিসিজিপি কমিটিতে পাঠানোই হয়নি। এজন্যই সিএমএসডি পরিচালক আট নম্বর প্রশ্ন তুলেছেন। এ কারণেই তখন ক্রয় সম্পূর্ণ অবৈধ হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমএসডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেনাকাটা অবৈধ হলেও মানবিক বিষয় আছে। কভিডের সময় সিএমএসডি তাড়াহুড়া করে এসব সামগ্রী কিনেছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো মাল দিয়েছে। মালের দাম কি তারা পাবেন না? কিন্তু এটার উত্তর সিএমএসডি দিতে পারবে না। তারা শুধু পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সিএমএসডির আগের ম্যানেজমেন্ট কী করেছে, সেটা জানিয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখেছে এবং মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে এ ব্যাপারটা সমাধান করে দেওয়ার জন্য। তারা যেন একটা উপায় বের করে দেন।’
অর্থ ছাড়ের পরও বিল দিচ্ছে না সিএমএসডি : এসব কেনাকাটার বিল দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগ ৩৪৩ কোটি টাকা সিএমএসডিকে বরাদ্দ দিয়েছে। তারপরও সিএমএসডি সেই বিল দিচ্ছে না কেন জানতে চাইলে সিএমএসডির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘এ সংকট সমাধানে গত ৯ ফেব্রুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় কোনো উপায় বের করতে পারেনি। তারা উপায় বের না করে, সাতটি পয়েন্টকে অগ্রাহ্য করে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়েছেন টাকা দেওয়ার জন্য। অর্থ বিভাগ সে পরিপ্রেক্ষিতে টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এতে সিএমএসডি আরও বিপদে পড়েছে। কারণ অর্থ বিভাগ লিখে দিয়েছে, পিপিআর-২০০২ ও পিপিআর-২০০৮ এর সকল বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে, তা না হলে টাকা খরচ করা যাবে না। অর্থাৎ তারা টাকা দেওয়ার শর্ত দিয়েছে পিপিআর অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু পিপিআর তো অনুসরণ করে কেনাকাটা হয়নি। তাহলে আমরা কীভাবে বিলের অনুমোদন দেব?’
তিনি আরও বলেন, ‘টাকা বরাদ্দের পর এখন ঠিকাদাররা চেপে বসেছেন বিল নেওয়ার জন্য। পরে সিএমএসডি কর্র্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে কেবিনেট সচিব ও অর্থ সচিবের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলে। দুই সচিবই উত্তর দিয়েছেন, আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালন করে টাকা শোধ করতে। অথচ আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালন করে এসব বিল দেওয়ার সুযোগ নেই। তখন তারা বলেছেন, তাহলে টাকা দেবেন না। এখন এই ৩৪৩ কোটি টাকা অবৈধ দেখাতে হচ্ছে। আবার ঠিকাদাররাও বিলের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তারা কষ্ট পাচ্ছেন এক বছর ধরে।’
এসব পরিপ্রেক্ষিতে সিএমএসডি কর্র্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়কে আরেকটি চিঠি লিখেছে জানিয়ে সিএমএসডির ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্বিতীয় চিঠিতে আমরা লিখলাম, টাকা তো দিয়েছেন, কিন্তু টাকা তো শোধ করতে পারব না। কারণ আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালন করতে বলেছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আপনারা আমাকে একটা নির্দেশনা দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি ৯ ফেব্রুয়ারির সিএমএসডির চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এসব বিল পরিশোধের ব্যাপারে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মহাপরিচালক টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেননি। ফলে ঠিকাদাররা এখন বিল পরিশোধে অব্যাহত চাপ দিচ্ছেন। সিএমএসডি ২৩ মে আরেকটা চিঠি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এ টাকা দেওয়া যাবে না। ফেরত যাবে। তখন সিএমএসডির বদনাম হবে। নির্দেশনা দিন। এখনো মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
মন্ত্রণালয়কে দুষছে : কেন বিল আটকে আছে বা সিএমএসডিকে কেন কোনো সঠিক নির্দেশনা দিচ্ছে না জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিএমএসডির কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের গভীর ও দৃঢ় বিশ্বাস মন্ত্রণালয়ে এটা নিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তারা ৩৪৩ কোটি টাকা এনেছেন অর্থ বিভাগকে কোনো ভুল তথ্য দিয়ে। অথচ বিল পরিশোধের ব্যাপারে যে সংকট, সেগুলো যে সমাধান হয়নি, সেটা অর্থ বিভাগকে বলেনি। কারণ সিএমএসডির তিনটি চিঠির পরও মন্ত্রণালয় কোনো নির্দেশনা দেয়নি।’
গত বছর এসব সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটার সময় স্বাস্থ্য সচিব ছিলেন আসাদুল ইসলাম। আর এসব কেনাকাটার অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার সময় স্বাস্থ্য সচিব ছিলেন আবদুল মান্নান। এ বিলের ব্যাপারে সমাধান চেয়ে সিএমএসডি তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান ও বর্তমান সচিব লোকমান হোসেন মিয়াকে চিঠি দিয়েছে।
বিল পেতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন সরবরাহকারীরা : প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোনো তদন্ত করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধেরও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ক্ষুব্ধ সরবরাহকারীরা গত ১১ মে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ‘মার্চ-২০২০ এ সিএমএসডি কর্র্তৃক কভিড-১৯ মোকাবিলায় ক্রয়কৃত জরুরি সামগ্রীর বিল প্রাপ্তি জটিলতা সমাধানের আকুল আবেদন’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি দেন। সেখানে এসব সরবরাহকারী তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।
আটকে আছে চীনকে দেওয়া সুরক্ষাসামগ্রীর বিল : আটকে থাকা ৩৫৪ কোটি টাকা বিলের মধ্যে গত বছর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে চীন সরকারকে পাঠানো ১ কোটি ৯৪ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকার একটি বিলও রয়েছে।
এসব সামগ্রী সরবরাহ ও গ্রহণের কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, গত বছর করোনা মহামারী শুরুর সময় বাংলাদেশ সরকার উপহার হিসেবে চীন সরকারকে ১০ লাখ হ্যান্ড গ্লাভস, ৫ লাখ ফেসমাস্ক, দেড় লাখ ক্যাপ, ১ লাখ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৫০ হাজার সু কভার ও ৮ হাজার গাউন দেয়। গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের উপস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সুরক্ষাসামগ্রীসমূহ চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের কাছে হস্তান্তর করেন।
এসব কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি চাহিদার ভিত্তিতে এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহম্মদ শহীদুল্লাহ জরুরি ভিত্তিতে মৌখিক নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে ছয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হতে মাত্র দুদিনে (১৬-১৭/০২/২০২০) এসব সুরক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়।
এসব সামগ্রীর মূল্য পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ চেয়ে গত বছর ৫ মার্চ সিএমএসডির পরিচালক স্বাস্থ্য সচিবকে চিঠি দেন। কিন্তু এখনো সে বিল পরিশোধ করা হয়নি।
