নবম-দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ০২ জুন ২০২১, ১১:৪২ পিএম

দ্বিতীয় অধ্যায় : স্বাধীন বাংলাদেশ

সৃজনশীল

১. জনাব ‘ক’-এর দল নির্বাচনে জয়লাভ করলেও কেন্দ্রীয় সরকার তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এতে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তারা কঠোরভাবে দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। ফলে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে যুদ্ধের রূপ ধারণ করে। জনাব ‘ক’ দল স্বাধীনতা ঘোষণা করলে আপামর জনগণ তাতে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। অবশেষে তার দেশ স্বাধীন হয়।

ক. কোন রাতকে কালরাত বলা হয়?

খ. ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বলতে কী বোঝায়?

গ. জনাব ‘ক’-এর দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যে কোন দিকটির মিল পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘মুক্তিকামী জনগণের সহযোগিতা ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়’ উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. ২৫ মার্চ রাতকে কালরাত বলা হয়।

খ. ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী বাঙালির ওপর যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেছিলেন ইতিহাসে তাই অপারেশন সার্চলাইট হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতটি কালরাত। এ রাতে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের দমন করার জন্য পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তিন ব্যাটালিয়ন সৈন্য অপারেশন সার্চলাইটে অংশগ্রহণ করে। রাত ১১টার দিকে এ অপারেশন শুরু হয়। এ অপারেশনের অর্থ গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ। ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম গণহত্যা অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয়। ওইদিন ঢাকা শহর আক্রান্ত হয়। বিশেষ লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

গ. উদ্দীপকের ‘ক’-এর দেশে স্বাধীনতা অর্জন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের দিকটির মিল পরিলক্ষিত হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায় জনাব ‘ক’ রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তাকে যেমন সরকার গঠন করতে দেওয়া হয়নি, তেমনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তাকে সরকার গঠন করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। শুধু তা-ই নয় পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করলে তা কেন্দ্র কঠোরভাবে দমন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মূলত কেন্দ্র সব সময় পূর্ব পাকিস্তানকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা সমগ্র পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৬ জন হওয়া সত্ত্বেও এ অঞ্চল থেকে জনসংখ্যার অনুপাতে কেন্দ্রীয় আইনসভা ও শাসনব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্বের অধিকার দেওয়া হয়নি। ১৯৪৭-৫৮ সাল পর্যন্ত চারজন রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একজন ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের আর তিনজন ছিলেন উর্দুভাষী। এ সময় ৭ জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনজন পূর্ব পাকিস্তানের আবার এদের মধ্যে একজন উর্দুভাষী। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু নানা অজুহাতে মন্ত্রিসভাকে পদচ্যুত করে পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় শাসন চালু করা হয়। ১৯৫৬ সালে যে শাসনতন্ত্র চালু করা হয় ১৯৫৮ সালে তা বাতিল করে সামরিক শাসন জারি করা হয়। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চালু করে সারা দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বরং অস্ত্রের মুখে দমন করার চেষ্টা করা হয়। দেশের জনগণের ওপর আক্রমণ দেখে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং দেশবাসী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করে। উদ্দীপকে জনাব ‘ক’-এর দলও স্বাধীনতা ঘোষণা করলে আপামর জনগণ তাতে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে তার দেশ স্বাধীন হয়। উদ্দীপকের ‘ক’-এর দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্জন মধ্যে মিল হলো, উভয়ই অর্জিত হয়েছে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

ঘ. যখন একটি দেশের সাধারণ জনগণ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে চায়, তখনই সে দেশের স্বাধীনতা আসতে পারে। জনগণের স্বাধীনতা চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগে যেটি প্রয়োজন তা হলো জনগণকে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার মতো উপযুক্ত নেতা। উপযুক্ত নেতা জনগণের চাওয়াকে বাস্তবে রূপায়ণের চালিকাশক্তি রূপে কাজ করেন। উদ্দীপকের দেশের জনাব ‘ক’ একাই স্বাধীনতা চেয়েছেন তা নয়, তার দেশের জনগণও স্বাধীনতা চেয়েছিল। জনগণের ওপর আক্রমণ করলে জনাব ‘ক’ যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়, ফলে স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়। নেতৃত্ব মূলত জনগণের মধ্যে স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। নেতৃত্ব স্বাধীনতার স্বপ্ন, আশা জাগিয়ে তুলতে পেরেছিল বলেই বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা চেয়েছিল এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে জনগণ যদি সক্রিয় অংশগ্রহণ না করত, তবে শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব ছিল না। জনগণ আত্মত্যাগে প্রস্তুত ছিল বলেই যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। দেশপ্রেমে জাগ্রত হলে মানুষ দেশের মুক্তির নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিকামী জনগণ সহযোগিতা করছে বলেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। তা না হলে কখনোই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত