ইউরোর গ্রুপ ‘সি’-তে অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দু’বারের বিশ্বকাপ রানার্সআপ ও ১৯৮৮’র ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস। অস্ট্রিয়া তৃতীয়বারের মতো মূল পর্বে। ইউক্রেন একটা সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অংশ উত্তর মেসিডোনিয়া প্রথমবারের মতো কোনো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে।
১৯৮২ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ, ১৯৮৪ ইউরো। ১৯৮৮ সালে নেদারল্যান্ডস যখন ইউরো জিতল, আগের আট বছর আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় ঠাঁই পায়নি ‘টোটাল ফুটবল’-এর ধারক-বাহকরা। আবার গত সাত বছর ধরে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই সুযোগ পায়নি তারা!
২০১৬ ইউরো ও ২০১৮’র বিশ্বকাপ মিস করা নেদারল্যান্ডস ১৯৮৮’র চ্যাম্পিয়ন দলের ডিফেন্ডার রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছিল বেশ। বার্সেলোনার টানে কোম্যান গত বছর চলে গেলে তার জায়গায় কোচ হয়ে এসেছেন আরেক ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্ক ডি বোর। খুব বেশি কিছু বদলাননি। কোম্যানের দেখিয়ে দেওয়া পথ ধরে ডাচদের ইউরোতে নিয়ে যাচ্ছেন। তুরস্কের কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু করা ডাচরা যদিও পরের দুই ম্যাচে জিতেছে। ইউরোর বাছাইপর্বে জার্মানদের গ্রুপে থাকা ডাচরা ৮ ম্যাচের ৬টি জিতেছে। ড্র ও হার ১টি করে। জর্জিনিও উইনালডাম করেছেন ৮ গোল। এ ছাড়া মেম্ফিস ডিপে এবং ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং তাদের দলের অন্যতম ভরসার নাম। তবে লিভারপুলের উত্থানের অন্যতম রূপকথার ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইককে মিস করবে তারা। ইনজুরির কারণে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা করতে পারেননি।
নেদারল্যান্ডসের একমাত্র ইউরো শিরোপা এসেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নকে হারিয়ে। ভেঙে যাওয়া সেই ইউনিয়নেরই এক দেশ ইউক্রেন এবার ডাচদের সঙ্গে একই গ্রুপে। বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় এবং দুটি ড্র করে ইউক্রেন। ৬ জয়ের একটি গতবারের চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম তিন ম্যাচের সবগুলো ড্র করে ইউক্রেন। এর একটি চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সঙ্গে (১-১)। ফিফা র্যাংকিংয়ে ২৪তম দলটির কোচিংয়ে ২০০৪ ফিফা ব্যালন ডি’অর জয়ী আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ইউক্রেনের আগের স্থানটি অস্ট্রিয়ার। ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপ খেলা দলটি এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মূলপর্বে উঠেছে। ২০০৮ ও ২০১৬ সালের টুর্নামেন্টে খেলে দু’বারই প্রথম পর্বে বাদ পড়ে তারা। এবারের বাছাইয়ে ১০ ম্যাচের ৬টি জয়ের বিপরীতে হেরেছে তিনটিতে, ড্র একটি। বড় কোনো টুর্নামেন্টে অস্ট্রিয়া সবশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৯০ সালে। ৯০’র বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছিল ২-১ গোলে। এই দলের ডেভিড আলাবা কিছুদিন আগেই যোগ দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে।
১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করা উত্তর মেসিডোনিয়া আকারে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম। জনসংখ্যা ২৫ লাখের মতো। ফিফা র্যাংকিংয়ে বর্তমানে ৬২তম স্থানে মেসিডোনিয়া। ২০২০’র নভেম্বরে বাছাইয়ের প্লে-অফে ১-০ গোলে জর্জিয়াকে হারিয়ে ইউরো নিশ্চিত করে। গত এপ্রিলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় জার্মানিকে। শুক্রবার প্রীতি ম্যাচে মেসিডোনিয়া ৪-০ গোলে হারায় কাজাখস্তানকে। এমন ধারার চমকে গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
