সংসদে ওবায়দুল কাদের

বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে এ বছর সর্বোচ্চ টোল এসেছে

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ০৫:৫৪ এএম

বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হওয়ার এক মাস আগে গত মে পর্যন্ত ৫৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে এ সেতু থেকে।

গতকাল রবিবার  বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর প্রথম ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে টোল থেকে আদায় হয়েছিল ৯৯ লাখ টাকা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এ সময়ে সেতুর পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ডিএসএল পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ১০৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।’ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আদায় করা অর্থ থেকে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ সেতুর নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর ঋণ পরিশোধ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে সেতুটি উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতু তৈরিতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছিল, টোল থেকে হিসাব করলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরেই সেই নির্মাণ খরচ উঠে এসেছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ২০৩৪ সাল নাগাদ টোলের মাধ্যমে পরিশোধ করা শেষ হবে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে যানবাহন বেড়ে গত ১২ মে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার ২৪০ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর এটাই এক দিনের সর্বোচ্চ টোল। দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে মধ্যাঞ্চলের সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে বঙ্গবন্ধু সেতু। তাছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনও এ সেতু ব্যবহার করে। এই সেতু দিয়ে ঈদের সময় যাতায়াত করে সবচেয়ে বেশি গাড়ি। বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপারে প্রতিটি বড় বাসকে ৯০০, ছোট বাসকে ৬৫০, বড় ট্রাককে ১৪০০, মাঝারি ট্রাককে ১১০০ এবং ছোট ট্রাককে ৮৫০ টাকা হারে টোল দিতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত