খাদ্য গুদামের ভুয়া বিলে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা, ওসি-এলএসডি ক্লোজ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ১০:৪৭ এএম

দিনাজপুরের বিরামপুরে খাদ্য গুদামে বোরো ধান দেবার ভুয়া বিল দিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের প্রচেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার পর গতকাল রবিবার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) রবিউল ইসলামকে ক্লোজ করা হয়েছে। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন সোনালী ব্যাংক থেকে গুদামে ধান দেয়ার ৮১ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য পৌর শহরের পূর্ব জগন্নাথপুর মহল্লার মৃত গণি মিয়ার ছেলে একেএম জাকিউল কবিরের নামে ভুয়া বিল জমা দেন রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

ব্যাংক ম্যানেজার লক্ষ্য করেন যে, বিলের যে সিরিয়াল নম্বর দেওয়া রয়েছে এ বছর খাদ্য গুদামের দেওয়া সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে মিল নেই। ব্যাংক ম্যানেজার এর কারণ জানতে চাইলে রেজাউল ইসলাম কৌশলে সেখান থেকে চলে যান।

ব্যাংক ম্যানেজার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন। 

সোনালী ব্যাংকের বিরামপুর শাখার ব্যবস্থাপক শ্রী হরি চন্দ্র জানান, বিরামপুরের একজন প্রভাবশালী সাবেক জনপ্রতিনিধি গত ১ জুন তার ব্যাংকে এসে জানান যে, একেএম জাকিউল ইসলামসহ তাদের কয়েকটি বিল আসবে। এসব বিলের অর্থগুলো যেন দ্রুত ছাড় দেওয়া হয়। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, বিরামপুরে একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকে ভুয়া বিল দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে আসছে। ইতিপূর্বেও বিরামপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে রেজাউল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, তিনি কোনো ভুয়া বিল জমা দেননি। খাদ্য গুদামে ধান দেওয়ার জন্য লটারিতে একেএম জাকিউল কবিরের নাম উঠেছিল। তাই তিনি জাকিউল কবিরের হয়ে বিল জমা দিতে গিয়েছিলেন। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের জন্য কৃষক বাছাইয়ে যে লটারি হয়েছে সেখানে একেএম জাকিউল ইসলামের নাম নেই।

ওসি এলএসডি ক্লোজ হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করে জানান, কোন ঘটনায় ওসি এলএসডি ক্লোজ হয়েছেন তা তিনি এ মুহূর্তে বলতে পারবেন না। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার জানান, বিষয়টি জানার পর গত ৩ জুন তিনি ভুয়া বিল জমাদানকারী রেজাউল ইসলামকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। রেজাউল ইসলাম ইউএনওকে জানান যে, বিরামপুর খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি রবিউল ইসলামের শ্যালক এসব বিল দিয়েছে।

তিনি বলেন, এ চক্রের সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। জড়িত সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত