৭ উইকেট। দরকারি সময়ে ৪২ রান। লর্ডসে স্মরণীয় অভিষেক হলো ওলি রবিনসনের। নিশ্চিতভাবেই খেলতেন ১০ জুন থেকে শুরু এজবাস্টনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও। কিন্তু ৮ বছর আগে করা বর্ণবিদ্বেষী টুইটারের জন্য শাস্তিনিষিদ্ধ হতে হলো ইংলিশ এই অলরাউন্ডারকে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে যতদিন না তদন্ত শেষ হচ্ছে ততদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য বিবেচিত হবেন না তিনি।
২০১৩ সালে নেটমাধ্যমে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন ১৮ বছরের যুবক রবিনসন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেকের পরেই সেই টুইট ভেসে ওঠে। এরপরেই তদন্তে নামে ইসিবি। প্রথম দিন শেষে আট পুরনো সেই টুইটে করা মন্তব্য নিয়ে ক্ষমাও চান রবিনসন। টুইট প্রকাশ হওয়ার পর প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন রবিনসন, ‘আমি খুবই লজ্জিত। আমার পরিস্থিতি তখন যেমনই হোক, বিচার বিবেচনা না করে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কোনোরকম ব্যাখা হয় না। আমি মানুষ হিসেবে অনেকটাই পরিপক্ব হয়েছি এবং নিজের ভুলের জন্য লজ্জিত। আমার কথায় আঘাতপ্রাপ্ত সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’ কিন্তু ক্ষমা চেয়েও লাভ হলো না।
অধিনায়ক জো রুট বলেছেন, ‘ব্যাটে ভালো অবদান রেখেছে। দুর্দান্ত বোলিং করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে সফল হওয়ার মসলা ওর মধ্যে রয়েছে। কিন্তু মাঠের বাইরে যা করেছে তা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পরেই ড্রেসিংরুমে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমি ওর টুইট দেখিনি। ও এরকম টুইট করতে পারে, বিশ্বাসও করতে পারি না। তাই ওর পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। আমাদের সবার কাছে এই ঘটনা একটা বড় শিক্ষা।’ ওদিকে যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী মনে করেন শাস্তিটা বাড়াবাড়ি রকম হয়ে গেছে, ‘ওলি রবিনসনের টুইট আক্রমণাত্মক ও ভুল। এক দশক আগের একটি বিষয়। সে তখন কিশোর ছিল। সেই কিশোর এখন পরিণত। এবং সে ক্ষমাও চেয়েছে। ইসিবির শাস্তিটা মাত্রাতিরিক্ত। এবং তাদের পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’
