রাজধানীর মহাখালীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া সাততলা বস্তির বাসিন্দারা তাঁবু গেড়ে তাতে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি অনুদানের অর্থে অনেকে ঘর গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে বেশিরভাগ বাসিন্দা গতকাল মঙ্গলবার ছাইয়ের মধ্যে শ্রমে-ঘামে গড়া সম্পদের যেটুকু পাওয়া যায়, তা সন্ধান করেছেন।
গত সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে সাততলা বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কেউ মারা না গেলেও কয়েকশ ঘর পুড়ে যায়।
গতকাল বস্তি ঘুরে দেখা যায়, বস্তির নারী-পুরুষ মিলে ধ্বংসস্তূপের ছাইয়ের ভেতর পড়ে থাকা পয়সা, লোহার টুকরা, টিনসহ বিভিন্ন দ্রব্য কুড়াচ্ছেন। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে বস্তিবাসীর মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ত্রাণ, ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অনুদানের অর্থে বাঁশ কিনে ও ত্রাণের টিন দিয়ে আবার ঘর তুলছেন অনেকে।
গতকালও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দলের একাধিক সদস্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, গ্যাসের ত্রুটিপূর্ণ লাইন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
বস্তির বাসিন্দা ভ্যানচালক মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি মাসে আড়াই হাজার টাকায় ভাড়া থাকতাম। আগুন আগুন চিৎকার শুনে দুই ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যাই। ঘরে খাট, টিভি, ফ্রিজ, আলমারি, হাঁড়িপাতিলসহ সংসারের সবকিছু ছিল। আগুন নিভলে ফিরে এসে ঘরের চিহ্ন পর্যন্ত পাইনি।’ আরেক বাসিন্দা রিকশাচালক রফিক বলেন, ‘গায়ের গেঞ্জি নিয়ে বেরিয়ে আসি। পরে ঘরের একটি জিনিসও পাইনি।’
আগুনের সময় বাইরে ছিলেন ট্রাকচালক শহীদুল। খবর শুনে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বস্তিতে এসে দেখেন, সব ছাই। ঘরে স্ত্রীর সোনার কানের দুল, হাতের বালা ছিল। গতকাল পোড়া ঘরের জিনিসপত্রের ভেতর সেগুলোই খুঁজে ফিরছিলেন শহীদুল।
পোশাককর্মী বস্তির বাসিন্দা হেলেনার কষ্ট করে জমানো ১৫ হাজার টাকা মুহূর্তে ছাই। নাসরিনও ছাইয়ের মধ্যে খুঁজছিলেন টাকা। তিনি বলেন, ‘টাকা-পয়সা সব পুড়ে গেছে। শুধু গায়ের কাপড়টুকু পোড়া বাকি আছে।’
আগুনে নিঃস্ব লিটন বলেন, ‘সরকার আমাদের দিকে একটু তাকালে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাছির জানান, উত্তর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সহায়তা তারা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করছেন। তিনবেলা রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
