পেকুয়ায় আশ্রয়ণকেন্দ্র নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ১২:২০ এএম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুটি আশ্রয়ণকেন্দ্র নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন আশ্রয়ণকেন্দ্র নিম্নমানের উপকরণ ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাছাড়া মাটি ভরাটের কাজও যথাযথভাবে হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেকপাড়া ও মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা এলাকায় আপদকালীন আশ্রয়ণকেন্দ্র (মুজিব কিল্লা) নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। দুটি মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে যথাক্রমে ১ কোটি ৭০ লাখ ৩২ হাজার ও ২ কোটি ৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পান পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন কাজলের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘কাজল অ্যান্ড ব্রাদার্স’। ২০২০-২১ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া এ প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজ চলতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু এখনো এর ৭০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উজানটিয়ার মালেকপাড়া ও মগনামার শরৎঘোনা এলাকার নির্মাণাধীন আশ্রয়ণকেন্দ্রের ভবনগুলোর তলায় যথাযথভাবে মাটি ভরাট করা হয়নি। নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট ও ময়লাযুক্ত বালু। ইট, পাথর ও খোয়া ভেজানোর জন্য তৈরি করা হয়নি আলাদা চৌবাচ্চা। প্রতি প্রকল্পে আলাদা নলকূপ স্থাপনের নির্দেশনা না মেনে নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে লবণাক্ত পানি। নির্মাণাধীন ভবনের পিলার বসানো হয়েছে সদ্য ভরাটকৃত মাটির ওপর। যার ভিত্তিতে নেই গভীরতা। কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়ার আগে সরবরাহকৃত নমুনা সাইন বোর্ড আকারে প্রকল্প স্থানে স্থাপন করার কথা উল্লেখ থাকলেও তা দেখা যায়নি। তাছাড়া প্রকল্প অফিস ও শ্রমিক শেড স্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও তা করা হয়নি।

উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেকপাড়ার বাসিন্দা নেওয়াজ সিকদার বলেন, প্রকল্পের কার্যাদেশমতে ঢালাই কাজে স্টিল শাটার ব্যবহার করা হচ্ছে না। নির্মাণকাজে দায়িত্বশীল প্রকৌশলী কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও আমরা তা দেখিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও ঠিকাদার নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। এতে ভেস্তে যাচ্ছে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষায় সরকারের এ বিশাল উদ্যোগ।

মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায় নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা যেনতেন কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকল্পের কার্যাদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ তদারকির জন্য একজন প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ ঠিকাদার কোনো প্রকৌশলী নিয়োগ দেননি। তাছাড়া প্রকল্পের নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল পরীক্ষার জন্য একজন উপসহকারী প্রকৌশলী নিযুক্ত রয়েছেন। কিন্তু প্রকল্পের কাজে ওই প্রকৌশলীকেও কখনো দেখা যায়নি।

অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন কাজল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ প্রকল্পে নিয়োজিত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল বলেন, কক্সবাজার থেকে পেকুয়া গিয়ে আমি নিয়মিত প্রকল্পকাজ তদারকি করছি। ঠিকাদারকে কোনো অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণকেন্দ্র (মুজিব কিল্লা) দুটির নির্মাণকাজ আমি নিবিড়ভাবে তদারকি করছি। তারপরও অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত