কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বাদলের ৪ অনুসারী গুলিবিদ্ধ

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ০৬:১৫ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ চারজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী।

এ সময় অবরোধকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে চার পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে বাদলের এই চার অনুসারী গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই কাদের মির্জার নেতৃত্বে বাদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে তার অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

বাদলের অনুসারী চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, সংঘর্ষে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজ (৫৫), ছেলে চয়ন (২০), ভাগ্নে আরিয়ান (২৩) এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় (২৮) গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের বসুরহাট-দাগনভূঞা সড়কের কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বাদল ও তার অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুল হোসেন আলালের ওপর কাদের মির্জার নেতৃত্বে মহড়া থেকে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো উপজেলার পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা জানায়, বাদলের ওপর কাদের মির্জার নেতৃত্বে হামলার খবরে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে অবস্থান নিয়ে বসুরহাট-পেশকারহাট রাস্তার মাথার প্রধান সড়ক অবরোধ করে বাদলের অনুসারীরা। এ সময় পুলিশ এসে তাদের বাধা দেয়।

একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ওপর। পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা সবুজকে বেধড়ক মারধর করলে তার অনুসারীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ, তার ছেলে ও এক ভাগ্নেসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন।

বাদলের ওপর হামলার ঘটনার পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এ ঘটনায় কাদের মির্জার সম্পৃক্ততার অভিযোগে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ও বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে বাদলের অনুসারীরা।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, রাস্তায় পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তারা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছিল। পুলিশ সরাতে গেলে তারা পুলিশের গাড়ি ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ শটগানের ২০-২২ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদল ঢাকা যাওয়ার পথে বসুরহাট বাজারের প্রেসক্লাবের সামনে পৌঁছান।

তিনি বলেন, এ সময় বিপরীত দিক থেকে কাদের মির্জা তার ৪০-৫০ জন অনুসারী নিয়ে বাজার পরিদর্শন করে আসার পথে বাদলের গাড়ির মুখোমুখি হন। তার অনুসারীরা বাদলের গাড়ির গতিরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

খিজির হায়াত বলেন, আজ (শনিবার) দুপুর ১২টা থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ চলবে।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে আবদুল কাদের মির্জার ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত