লকডাউনে ইতালি থেকে সুদূর নরওয়ের উত্তরে চলে যান ভ্যালেন্তিনা মিওজো। ঢুকে পড়েন উত্তর মেরুর ভেতরে। কেবল মহামারী কাটাতে নয়, নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে উত্তর মেরুতে কাটিয়ে দেন পুরো ৯ মাস। ভিন্নরকম এক লকডাউন অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
ভ্রমণপ্রিয় ভ্যালেন্তিনা মিওজো
ভ্যালেন্তিনা মিওজোর জন্ম ১৯৮২ সালে। উত্তর ইতালির এমিলিয়া রোমাগনার অধিবাসী তিনি। মডেনা অ্যাপেনিনসের প্রথম পাহাড়ে তার বাস। টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে তার পড়াশোনা। প্রচলিত স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় বিশ্বাস না করে ছোটবেলা থেকেই হেঁটে গেছেন নিজের রাস্তায়। জীবনকে একমাত্র শিক্ষাক্ষেত্র ধরে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর পথে পথে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ভ্রমণই তার একমাত্র রাস্তা। জীবনকে বাঁধতে চাননি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট ছকের যাপনে। কিশোর বয়সে তিনি ভর্তি হন মডেনার সেলমি ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার জন্য। বিশ্বকে জানতে চাইলে, ভিনদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটাতে চাইলে তাকে অবশ্যই বিদেশি ভাষা জানতে হবে। ছেলেবেলা থেকেই তার বাবা-মা তার আগ্রহের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। বয়স ১৮ পার হওয়া মাত্রই শুরু করে দেন তার একক ভ্রমণের যাত্রা। প্রতিবার ঘর থেকে বেরুনোর আগে মা বলতেন, ‘সাবধানে থেকো। পৌঁছে আমাকে ফোন কোরো। নিজের মতো করে বেঁচে থাকো। তোমার করণীয় যে ছোট্ট কাজটুকু আছে সেটুকু সেরে ফেলো। যাতে পৃথিবীকে আরও ভালোভাবে পরিবর্তন করা যায়।’ সাহারা মরুভূমি থেকে অ্যামাজনের রেইনফরেস্ট, বিশৃঙ্খল ভারত থেকে শুরু করে শান্তিপূর্ণ ভুটান, দক্ষিণ আফ্রিকার সাভানা থেকে বোর্নিওর প্রত্যন্ত গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। নিজেকে ‘পৃথিবীর নাগরিক’ মনে করা ভ্যালেন্তিনার ছিল ঘুরে বেড়ানোর প্রতি আলাদা আকর্ষণ। বন-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো, পাহাড়ে হাইকিং করা মেয়ে তিনি। তার কাছে নতুন জায়গায় ঘোরার চ্যালেঞ্জ মানেই যেন আলাদা মাত্রা যোগ করে।
অর্গানিক খামার
ইতালি খুবই পর্যটনবান্ধব দেশ হিসেবে পরিচিত। পর্যটকদের স্থানীয় খাদ্য সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার জন্য ১৯৯৯ সাল থেকে দেশটির অর্গানিক কৃষকরা মিলে যোগ দেন ‘বিশ্বব্যাপী অর্গানিক খামার’ (WorldWide Opportunities on Organic Farms- WWOOF) প্রকল্পে। এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের ১৩২টি দেশ যোগ দিয়েছে। এই প্রকল্প পর্যটনবান্ধব ইতালির আরেকটি মাইলফলক। বিশ্বের পর্যটকদের জন্য সদস্য হওয়ার ফি এক বছরের জন্য ২৫ ইউরো। সদস্যরা এই প্রকল্পের আওতাধীন যেকোনো অর্গানিক খামারে সারা দিন কাজ করার বিনিময়ে স্থানীয় সংস্কৃতিকে যেমন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন, তেমনি একটি অর্গানিক খামার কেমন হওয়া উচিত সে ব্যাপারেও পাবেন সম্যক ধারণা। কাজেই দেশভ্রমণে বের হলে কাউকে আর থাকা-খাওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মডেনার কাছেই তার একটি অর্গানিক খামার ছিল। ২০০৬ সাল থেকে এই প্রকল্পের আওতায় তার নিজস্ব খামারের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। খামারটির নাম ছিল ‘কা পিনিলোপ’। তার সেই খামারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষজন আসতেন কাছ থেকে ইতালি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ফিরে যেতেন। সেই আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে ভ্যালেন্তিনা জানান, ‘আমি বিদেশিদের ইতালীয় রান্না সম্পর্কে আগ্রহ দেখেছি। একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ একটি দেশে বেড়াতে গিয়ে সবসময় সেই দেশের নিজস্ব স্বাদ পেতে চায়। খামারে কাজের বিনিময়ে ভিনদেশি রান্নাঘরে ভিনদেশি খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা মানুষকে ভিন্নরকম আনন্দ দেয়।’
কিন্তু ২০১৬ সালে জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে হয় তাকে। চুক্তি নবায়নের অভাবে খামারটি বন্ধ করে দিতে হয়। ভ্রমণ নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেকগুলো বিষয়ে একই সঙ্গে কাজ করে যেতে হয়। অর্গানিক খামারটি সেই অনেকগুলো বিষয়ের একটি ছিল। কিন্তু থেমে যাওয়ার পাত্রী নন তিনি। ভ্রমণে আবার মনোযোগী হয়ে উঠলেন। নিজেকে বোঝালেন, ছেড়ে আসা সেই খামার ব্যবসা থেকে যেন সাময়িক ছুটি নিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি আবারও এমিলিয়া ফিরে আসবেন। গ্রামাঞ্চলে পর্যটকদের থাকার মতো একটি ছিমছাম বিএনবি চালু করবেন।
ব্লগার হিসেবে যাত্রা
নির্দিষ্ট কোথাও ঘুরতে গেলে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন সেখানকার প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রা। নতুন কোনো স্থানে ঘুরতে গেলে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে গেছেন। ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের আদিবাসীদের সঙ্গে তাদের গ্রামে দীর্ঘ সময় কাটাতে ভালোবাসেন। ভ্রমণ তাকে প্রকৃতির সম্বন্ধে সচেতন হতে শিখিয়েছে। তাই পর্যটকের দায়িত্ববোধ থেকে বন্যপ্রাণী পুনরুদ্ধার কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন তিনি। একাকী ভ্রমণ তাকে শিখিয়েছে কেবল ভ্রমণই মানুষকে ঋদ্ধ করে না। ভ্রমণে আশপাশ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হয়, পরিবেশের প্রতি সদয় হতে হয়। এই উপলব্ধি তাকে আরও সচেতন করে তোলে। ২০১০ সালের প্রথম দিকে ‘দায়িত্বশীল পর্যটন’-এর ওপরে কোর্স করা শুরু করেন। তখনো ভ্রমণের সঙ্গে দায়িত্বশীলতার মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি সবার কাছে এত পরিচিত ছিল না। দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন ভ্রমণ সবসময় সুখকর কিছু নয়। পরিবেশ ও সংস্কৃতির ওপরে এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে চালু করেন নিজস্ব ওয়েবসাইট ভিয়াৎজারে লিবেরা ডট কম (https://www.viaggiarelibera.com/)। ইতালিয়ান ভাষায় ‘ভিয়াৎজারে’ কেবল ভ্রমণ বোঝায় না, শব্দটি প্রকাশ করে ভ্রমণের সময় মানুষ যে কাজকর্ম করে থাকে সবমিলিয়ে ভ্রমণ যে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় তার পুরো বিষয়টিকে। শুরুতে শৌখিন ব্লগার হিসেবে এই সাইটে তার যাত্রা শুরু হয়। পর্যটনের সঙ্গে যত দিন গড়ালো তত বেশি তিনি বুঝতে পারলেন যে, পর্যটন খাতে মানুষকে সচেতন করার কোনো বিকল্প নেই। এরপরে পেশাদার ব্লগার হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। তিনি একাধারে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিশ্বের টেকসই ও দায়িত্বশীল ভ্রমণের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই তার লক্ষ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্যুরিজম সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখিয়ে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তিনি ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করে থাকেন। একজন প্রকৃতি ও ট্যুর গাইড হিসেবে তিনি ইতালীয়দের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যান। ২০১৬ সাল থেকে ফ্লিল্যান্সার এবং টেকসই ব্লগার হিসেবে তার ব্লগিং শুরু হয়।
কভিড যেন তার ভ্রমণের পথ রুদ্ধ করে দিল। কভিডের কব্জায় ইতালির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তখন ভেঙে পড়েছে। কঠোর লকডাউনে পড়ে নাগরিকদের সবার বিপর্যস্ত অবস্থা। বিশ্বজুড়ে ভেঙে পড়েছে পর্যটন খাত। ঘর থেকে বের হতে না পেরে অপেক্ষা করলেন দীর্ঘ সময়। পাশাপাশি ব্লগিং চলছেই। একজন পর্যটন শিক্ষক হিসেবে নিজের ব্লগে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। পর্যটন খাতের নানা সংকট সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে এই খাতে কাজ করার সুযোগ কখনো হাতছাড়া করতে রাজি নন ভ্যালেন্তিনা।
উত্তর মেরুতে লকডাউন
আমাদের বেশিরভাগ মানুষের জীবনে লকডাউনের অর্থ দাঁড়ায় একা থাকার অভিজ্ঞতা। করোনাভাইরাসের দৌরাত্ম্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক দূরত্বের ঘটনাকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিল। সেই হিসেবে একা হয়ে পড়ে মানুষ। মানুষের সংস্পর্শ বাঁচিয়ে একা থাকাটাই যেন এখনকার জীবনের অংশ। মহামারীর অর্থ এখানে নির্জনতা। করোনার দৌরাত্ম্য কমে এলে ইতালির লকডাউন শিথিল করা হয়। বহুদিন ধরে ঘরে বসে থাকা ভ্যালেন্তিনার মাথায় ভ্রমণের চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নরওয়ের সুদূর উত্তরে একটি চাকরির প্রস্তাব পান। তুন্দ্রা অঞ্চলের মাঝখানে একটি গেস্টহাউজের পরিচালক হিসেবে কাজ করতে হবে তাকে। প্রথম দিকে একটু দোটানায় ছিলেন। কিন্তু নতুন জায়গার নতুন অভিজ্ঞতা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। তাই চিন্তাভাবনা শেষে দুদিন বাদে রাজি হয়ে গেলেন সে প্রস্তাবে। দীর্ঘদিন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়ে পায়ে যেন শেকড় গজিয়ে গেছে তার। একমাস পরে ইতালির মডেনা থেকে ২ হাজার ৪০০ মাইল পাড়ি দিয়ে তিনি কংসফিওর্ডে গিয়ে পৌঁছলেন। মডেনা বিশাল একটি শহর। দ্বাদশ শতাব্দীর ক্যাথেড্রালসহ ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে তার। অন্যদিকে কংসফিওর্ডে মাত্র ২৮ জন অধিবাসী। এখানে কোনো মধ্যযুগীয় স্থাপত্য নেই। নিকটতম সুপারমার্কেটটি ২৫ মাইল এবং নিকটতম হাসপাতালটি প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত। স্থানীয় বার্লেভোগ বিমানবন্দরটি একদম ছোট। মাত্র ২৫ মাইল জুড়ে অবস্থিত। শীতকালে প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের বেগ ৭৫ মাইল। বরফের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন। রাস্তা পরিষ্কার থাকলে এখানকার বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে বা প্রতি দুই সপ্তাহে একবার মুদি দোকানের কেনাকাটা করার জন্য বের হন।
দর্শনার্থী হিসেবে তিনি জানেন নতুন পরিবেশে নতুন অভিজ্ঞতায় খাপ খাইয়ে নিয়েই এ রাস্তায় টিকে থাকতে হয়। আবিষ্কারের নেশায় উন্মুখ ছিলেন তিনি। আগ থেকেই জানতেন তিনি একটি বিচ্ছিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। তিনি সেখানে পৌঁছানোর পরপরই মেরু রাত এসে পড়ল। পুরো দুই মাসের জন্য সূর্য ডুবে গেল। উত্তর মেরুতে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস ছিল শুধু অন্ধকার। ২৪ ঘণ্টার দিনরাতের অভিজ্ঞতা যখন টানা ২৪ ঘণ্টাই রাতে গিয়ে ঠেকল সে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতাই বলতে হবে। আলো ছাড়া টিকে থাকা, নতুন করে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কঠিন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয় তাকে। তার দেহঘড়ি বুঝে উঠতে পারছিল না কখন ঘুমাতে হবে কখন জাগতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া শুরুতে বেশ কঠিন মনে হচ্ছিল তার কাছে। আবার মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কংসফিওর্ড টানা সূর্যের আলোয় ডুবে থাকে। তখন মাঝরাতে উঠেও আপনি সূর্যের আলোয় স্নান করতে পারবেন। ফের দুমাস সূর্যাস্ত নেই। আবার দেহঘড়ি বিপাকে পড়ে। এই চরম আবহাওয়া তাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখিয়েছে। তিনি জানান, ‘যখন আমি গরম দেশে যাই তখন জলবায়ু, পরিবেশ থেকে শক্তি নিই। আমি পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করি। সেখানে সূর্য আপনাকে শক্তি দিচ্ছে। কিন্তু যখন আপনি এ ধরনের বিচ্ছিন্ন পরিবেশে গিয়ে পড়বেন তখন দেখবেন আপনি নিজের মধ্যেই শক্তি খুঁজে পাচ্ছেন। এটি একটি আশ্চর্যজনক আবিষ্কার। বিশেষ করে যখন দুই মাস ধরে কোনো আলো থাকে না, আপনাকে নিজ থেকে ঘুম থেকে জেগে উঠতে হবে।’
খামার চালানোর অভিজ্ঞতা তাকে গেস্টহাউজ চালাতে সাহায্য করেছে। ভ্যালেন্তিনা মিওজোর চোখে কংসফিওর্ড বহু সাংস্কৃতিক স্থান। ২৮ জন অধিবাসীর অনেকে জার্মান, লাটভিয়ান, ইতালীয় ও থাই। তারা একসঙ্গে বসবাস করেন। সবার বোঝার জন্য ইংরেজিতেই কথাবার্তা বলেন। তুন্দ্রা অঞ্চল বলে এখানে কোনো গাছ জন্মায় না। বন্য প্রাণীদের ভেতরে আছে উত্তর মেরুর শেয়াল ও রেইনডিয়ার। সমুদ্রে আছে তিমি ডলফিন অর্কাস ও প্রচুর সামুদ্রিক পাখি। মহামারীতে এখানে কেউ কভিডে আক্রান্ত হয়নি। গেস্ট হাউজের পরিচালক হিসেবে সাত মাসে একদিনও তাকে মাস্ক পরতে হয়নি।
উত্তর মেরুতে আর কতদিন?
গেস্টহাউজে ভ্যালেন্তিনার কাজের চুক্তি শেষ হয়েছে দুই মাস আগে। কিন্তু এ অঞ্চল তার এতই ভালো লেগেছে যে, একটি বাড়িভাড়া নিয়ে কংসফিওর্ডেই থেকে যান। এখানকার নির্জনতার সঙ্গে বসবাস তাকে অন্যরকম শক্তি দিয়েছে। চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে নিতে ভেবে রাখছেন আবার ফিরে আসবেন এখানে। উত্তর মেরুর আরও উত্তর দিকে যাওয়ার ইচ্ছে তার। এবারে সভ্যালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাবেন তিনি। উত্তর মেরুর ৬৫০ মাইল দূরে বরফের রাজ্যে হারিয়ে যাবেন। কংসফিওর্ডের লোকজনের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক চালিয়ে যাবেন তিনি। সেখান থেকে বিদায় বেলা তিনি নিজেকে মনে করিয়ে দিলেন, ‘জীবন আমাকে যা দিয়েছে তা দুহাত পেতে নেব বলেই আমি এই ক্যারিয়ার বেছে নিয়েছি। আমার কাজ শুধু ভ্রমণ করা।’
