ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণির করা মামলায় উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ (৫০) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সোমবার দুপুরে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে গতকাল সকালে পরীমণি বাদী হয়ে ঢাকার সাভার মডেল থানায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ (৪২) দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার পর ডিবি সদস্যরা নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর নাসির উদ্দিন মাহমুদ ওরফে নাসির ইউ মাহমুদকে পরিচালকের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ঢাকা বোট ক্লাব। একই সঙ্গে নাসির ইউ মাহমুদ, অমি ও শাহ আলম নামে তিনজনের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্তে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি)। গত ৮ জুন রাতে এ বোট ক্লাবেই নাসির তাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন পরীমণি। আগের দিন সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পাতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠিতে এবং একই দিন রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার কথা জানানোর পর গতকাল সকালে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমণি।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ জানান, গতকাল দুপুরে রাজধানীর উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, ‘বোট ক্লাবে পরীমণিকে অত্যাচার ও নির্যাতন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ঢাকা জেলার সাভার থানায় একটি মামলা হয়েছে। সাভার থানা থেকে আমাদের রিক্যুইজিশন দিয়েছে, যেহেতু আসামি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় থাকে সে অনুযায়ী আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার করি। এ বাড়িতে ডিজে পার্টি হয়, এই বাড়ি থেকে আমরা এফআইআরভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করি। তাদের সঙ্গে আরও তিনজন “রক্ষিতা” ছিল, আমরা তাদেরও গ্রেপ্তার করেছি। এখানে কিছু মাদক পাওয়া গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার বাদী বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত নায়িকা। আমরা যারা গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি করি, আমাদের দায়িত্বই হলো আসামিদের গ্রেপ্তার করা। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা যেহেতু মাদক পেয়েছি তাই মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দেওয়া হবে। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আমরা তাদের রিমান্ডে আনব। আর যেহেতু সাভারে মামলা হয়েছে, সাভার থানা পুলিশ শ্যেন অ্যারেস্ট দেখিয়ে আসামিদের নিতে পারবে।’
বনানী থানায় পরীমণির অভিযোগ নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে হারুন বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।’ এ ঘটনায় আরও কারা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আরও যারা রাঘববোয়াল আছে, যারা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে উঠতি বয়সী নারীদের নিয়ে রাতের আঁধারে অসামাজিক কার্যকলাপ চালায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমাদের কমিশনারের নির্দেশ গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ রাজধানীর যেকোনো এলাকায় ক্লাবে গিয়ে উঠতি বয়সের মেয়েদের নিয়ে ডিজে পার্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ বোট ক্লাবে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা মামলার তদন্তের স্বার্থে সেখানে যাব।’
নাসির উদ্দিন মাহমুদ সম্পর্কে ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, ‘নাসির ইউ মাহমুদের ব্যবসা হচ্ছে সে ছোট ছোট মেয়েদের রক্ষিতা রাখে এবং মদের ব্যবসা করে। এসব বিষয়ে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। আসামিদের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে অনেকে অভিযোগ করেছে। সেগুলো আমরা পেয়েছি। কেউ যদি লিখিতভাবে অভিযোগ করে সেগুলো আমরা আমলে নেব।’
পরীমণির মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে : ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে সাভার মডেল থানায় চিত্রনায়িকা পরীমণির মামলা করা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানাটির ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম। পরীমণি এজাহারে পিরোজপুরের ভা-ারিয়া থানার স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৫০), অমিসহ (৪১) অজ্ঞাতনামা চারজনের বিরুদ্ধে এ মর্মে এজাহার দায়ের করছি যে ৮ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় আমার বর্তমান ঠিকানার বাসা থেকে আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি, অমি, বনিসহ দুটি গাড়িযোগে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হই। পথিমধ্যে অমি বলে, বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেডে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো আমরা ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। তখন অমি অনুরোধ করে, এখানে পরিবেশ সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পারো। আমার ছোট বোন বনির টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে আমরা ক্লাবের ভেতরে যাই। টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর ১ নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ ১ নম্বর আসামি মদ্যপান করার জন্য জোর করেন।’
এজাহারে আরও বলা হয়, ‘আমি মদ্যপান করতে না চাইলে ১ নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল ঢুকিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতে আমি সামনের দাঁত ও ঠোঁটে আঘাত পাই। ১ নম্বর আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ১ নম্বর আসামি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রাখা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারে। তখন আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ১ নম্বর আসামিকে বাধা দিতে চাইলে তাকেও মারধর করে নীলাফোলা জখম করে। এ সময় আমি ৯৯৯-এ কল করতে গেলে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি টান মেরে ফেলে দেওয়া হয়। পুনরায় ফোনটি উঠিয়ে কল দিতে চাইলে ফোনটি ফেলে দেয়। উল্লেখ্য, ২ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন ১ নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহায়তা করে। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারব। প্রকাশ থাকে যে ২ নম্বর আসামি অমি পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে আমার বর্তমান বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যায় এবং ২ নম্বর আসামি অমিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন আসামির সহায়তায় ১ নম্বর আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই। আনুমানিক রাত ৩টার সময় আমি আমার গাড়িযোগে প্রায় অচেতন অবস্থায় আমার সঙ্গীদের সঙ্গে ফিরে আসি। আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। ওই বিষয়ে আমি আমার পরিবার, শিল্পী সমিতি ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করায় এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো।’
গ্রেপ্তারদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সাভার পুলিশ : সাভার থানায় পরীমণির করা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহেল কাফি বলেছেন, তারা দুয়েক দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ মামলাটির তদন্তে যেভাবে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী কাজ করবেন তারা।
নিজে ভিকটিম হওয়ার দাবি নাসিরের : গতকাল দুপুরে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে উত্তরার ওই বাড়িতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমি কমপ্লিটলি ভিকটিম। এখানে আমার যে ঘটনা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘটনার দিন ক্লাবে ছিলাম কারণ আমি ওই ক্লাবের একজন পরিচালক। আমি যখন ক্লাব থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম তখন তারা (পরীমণি ও তার সঙ্গীরা) ঢোকে। তারা যখন ঢোকে তখন আমাদের সিকিউরিটি অফিসাররা কেউ তেমন ছিলেন না। তারা খুব উচ্ছৃঙ্খলভাবে ঢোকে। তাদের সঙ্গে একটা ছেলে ছিল সে ঢুলছিল। তারা সবাই মদ্যপ অবস্থায় ছিল। ঢোকার পরে আমাদের বারের কাউন্টার থেকে আমাদের দামি বড় বড় ড্রিংকস নেওয়ার চেষ্টা করেছে।’ অভিযোগ তাহলে আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কারণ তারা যে ড্রিংকসগুলো নিতে চাইছে সেখানে আমি বাধা দিছি। কারণ তারা ক্লাবের মেম্বর না, তারা তো এ ড্রিংকস নিতে পারে না। আমি জাস্ট তাদের বাধা দিয়েছি যে এটা নেওয়া যাবে না। নিতে হলে তোমাদের কোনো অ্যাকাউন্টের অ্যাগেইনস্টে নিতে হবে, আর এটা বিক্রিযোগ্য না। সঙ্গে করে নেওয়ার জিনিস না। পরে আমি আমার সিকিউরিটিদের ডাক দিই। তারা এসে তাদের নিয়ে যায়।’
ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ : ঘটনার পর রাতে বাসায় ফেরার আগে বনানী থানায় গিয়ে অভিযোগ জানালেও তা পুলিশ নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ করেছেন নায়িকা পরীমণি। তার অভিযোগ পুলিশ তাকে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। পরীমণির ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে থানার সিসি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ডিভিশনের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘পরীমণি ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করতে বনানী থানায় গিয়েছিলেন। পরীমণির থানায় যাওয়ার সেই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেছে, অসংলগ্ন অবস্থায় তিনি থানায় এসেছিলেন এবং ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছিলেন না। ৯ জুন রাত ৩টা ৫২ মিনিটে বনানী থানায় যান পরীমণি। এছাড়া রূপনগর থানা ও সাভার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বনানী থানার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানতে পারি, থানায় আসার সময় পরীমণির সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। তিনি ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছিলেন না। কিছুটা অসংলগ্ন অবস্থায় তার দুই সঙ্গী তাকে প্রায় পাঁজাকোলা করে থানায় নিয়ে আসেন। এই সময় তিনি কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারের কাছে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগটি এমন ছিল সাভার ও বিরুলিয়ার মাঝখানে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে মদের সঙ্গে ড্রাগ মিশিয়ে পান করানোর চেষ্টা করে এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তিনি বলেন, তিনি (পরীমণি) যেহেতু অসংলগ্ন অবস্থায় ছিলেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তখন ডিউটি অফিসার তাকে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। স্বাভাবিক হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করার জন্য ডিউটি অফিসার তাকে অনুরোধ করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বনানী থানার একটি মোবাইল টিম তাকে নিরাপত্তা দিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। পরের দিন তার থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি থানার অফিসার এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা অভিযোগ দায়ের করতে আসেননি। তিনি আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেছেন। আসলে উনার ওই পর্যায়ে কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। পরে বিষয়টি আমাদের জানাননি, তাই এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতে পারিনি।’
এক প্রশ্নের জবাবে সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘পরীমণির ফেইসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি প্রথমে জানতে পারি। আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি বিষয়টি। ঘটনাটি যেহেতু ঢাকা বোট ক্লাবে ঘটেছে সেহেতু ডিএমপি গুলশান বিভাগ, মিরপুর বিভাগ ও ঢাকা জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরীমণি বাংলাদেশের সবার কাছে পরিচিত ও সেলিব্রেটি, তাই তার স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও আমাদের দেখতে হচ্ছে। তার কোনো ধরনের গোপনীয়তা যেন নষ্ট না হয় সেটিও আমরা দেখছি। এ ক্ষেত্রে বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল এমন বিবেচনা মাথায় নিয়ে আমাদের কাজটি করতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনার দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমণির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সুদীপ কুমার বলেন, ‘একজন মানুষের যে মানবিক মর্যাদা সেটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। যে অপরাধের শিকার হবেন তার জন্য অবশ্যই আইনের সব দরজা খোলা রাখতে হবে। তিনি যদি সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে থাকেন, এ ক্ষেত্রে তিনি লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়টি কিন্তু আমাদের ডিএমপির সাইবার ইউনিট ইতিমধ্যে আমলে নিয়েছে। তারা এ বিষয়ে কাজ করছে।’
পরীমণির বাসার নিরাপত্তা জোরদার : বোট ক্লাবের ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে পরীমণি একাধিকবার বলেছেন। নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে আসার পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বনানী থানা পুলিশ। যতদিন পর্যন্ত পরীমণি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন, ততদিন বিশেষ এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। গতকাল সকাল থেকেই বনানীতে পরীমণির বাসার সামনে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পরীমণির বাসার সামনে বনানী থানার দুটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। বাসা ও আশপাশে এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাসার সামনের রাস্তার অংশে যান চলাচল ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তাছাড়া এলাকায় যারাই প্রবেশ করছেন, তাদের সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি করছে পুলিশ। থানার একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পরীমণির বাসার সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছে। বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘পরীমণির বাসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যতদিন প্রয়োজন হবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।’
