রূপগঞ্জে ৫০ কিমি যানজট স্থবির টঙ্গী থেকে চান্দনা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ১২:৫৫ এএম

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী ব্রিজ থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজটে পড়েনি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর পর্যন্ত সড়কেও যানজটে নাকাল হয় সাধারণ মানুষ। প্রায় প্রত্যেক দিনই যানজট ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এতে যাত্রীদের ৮ ঘণ্টার বেশি বাসেই কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরজুড়ে মহাসড়কের এ অংশে যানজট থাকলেও গত কয়েকদিন তীব্র আকার নিয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত থাকছে ভয়াবহ যানজট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিন-রাত চেষ্টা করলেও যানজট থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না নগরবাসী।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে যানজটের জন্য পুলিশ অন্তত সাতটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো, মহাসড়কের দুই পাশে ফুটপাত না থাকা, মূল সড়কে লাখো পোশাক শ্রমিকের যাতায়াত, সড়কে নির্মাণকাজ, অবৈধ পার্কিং, ধীরগতি ও অনুমোদনহীন যান চলাচল, যত্রতত্র গাড়ি থামানো ও যাত্রী ওঠানামা এবং রাস্তা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে গর্ত। কিনারা ও সড়ক বিভাজকের মাঝে বালু, খোয়াসহ নানা নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, চলমান বিআরটি প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণের কারণে এ মহাসড়কের দুপাশে কোনো ফুটপাত নেই। এতে সকাল, দুপুর ও রাতে মূল সড়কে হেঁটে যাতায়াত করেন লাখো পোশাক শ্রমিক। দিনে উত্তরাঞ্চল থেকে পণ্যবাহী অসংখ্য যান টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার পাশে অবস্থান নেয়। রাত ১০টার পর রাজধানীতে ঢোকে। ফলে রাত পর্যন্ত সড়কের এক পাশ বন্ধ থাকে। এর সঙ্গে অনুমোদনহীন ও ধীরগতির যানবাহন মহাসড়কে আসায় যানজট বাড়ছে। যত্রতত্র চালকদের যাত্রী ওঠা-নামানোর কারণেও যানজট দেখা দেয়, ঢাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের সড়কে ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যানজট থেকে রেহাই মিলবে না বলে জানান তারা।

ঢাকা-গাজীপুর রুটে বলাকা পরিবহনের বাসচালক নিয়ামত হোসেন জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী বাজার পর্যন্ত ২৫ মিনিটের পথ যেতে চার ঘণ্টার বেশি লাগছে। আগে গুলিস্তান পর্যন্ত দিনে ছয়বার ট্রিপ দিলেও, এখন দুটি দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভোগড়া বাইপাস এলাকার ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান-বাজার বসছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা। আমাদের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই।

বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক (সওজ অংশ) মো. কায়সার হামিদ জানান, তাদের প্রকল্পের ৫৫ ভাগ কাজ শেষ। টঙ্গী কলেজ গেট থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত চার লেনের কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ হবে। বাকি কাজগুলো আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে। তখন যানজট সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে।

রূপগঞ্জে ৫০ কিলোমিটার যানজট: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে টানা তিন দিন ৫০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা দিচ্ছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত রূপগঞ্জের ভুলতা থেকে গাজীপুরের মীরের বাজার পর্যন্ত বাইপাস সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। এতে সড়কে চলাচলকারী ৩০ জেলায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

ট্রাকচালক তুষার জানান, চট্টগ্রাম থেকে কাঁচামাল নিয়ে বাইপাস সড়ক দিয়ে গাজীপুর যাবেন। প্রায় ৫ ঘণ্টা কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় আছেন। এতে পণ্য নষ্ট হতে বসেছে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, ‘কালীগঞ্জের পাঞ্জুরা এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। এর সঙ্গে এশিয়ান হাইওয়ের চার লেনের কাজ চলায় যানজট বেড়ে গেছে। আমরা যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত