তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার জন্য শুধু সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার অফিসার ও জওয়ানকেই হত্যা করেছেন তা নয়, শহরের হাজার হাজার গাছও কেটে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে দেশে একটি অদ্ভুত ধরনের তন্ত্র চালু করেছিলেন, সেটা হচ্ছে কারফিউতন্ত্র। যাদের বয়স পঞ্চাশের ওপরে তাদের মনে থাকবে, জিয়াউর রহমানের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম শহরে বছরের পর বছর রাতের বেলা কারফিউ ছিল।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির উদ্যোগে চার মাসব্যাপী চারা রোপণ ও পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াকে কেউ একজন বলেছিল যে, গাছের ফাঁক থেকে আপনাকে গুলি করতে পারে। এ কারণে ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে সব গাছ কেটে ফেললেন। আবার আমরা দেখলাম, হেফাজতের আন্দোলনের সময় বিএনপি-জামায়াত মিলে ঢাকা শহরের সব গাছ কেটে ফেলেছে। পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বেশিরভাগকে তখন চুপ থাকতে দেখেছি, যেটি অনভিপ্রেত। বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতার সময় দেশে বনভূমির পরিমাণ ৮ শতাংশে নেমে এসেছিল, আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত সাড়ে ১২ বছরে বৃক্ষ আচ্ছাদিত জমির পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সঙ্গে বনভূমির পরিমাণও ১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’
এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত স্মরণসভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিমের মতো একজন নেতার হঠাৎ চলে যাওয়া শুধু আমাদের দলের জন্যই নয়, পুরো রাজনীতি অঙ্গনের জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাসিম ভাইয়ের অন্যতম বড় গুণ ছিল তিনি একেবারে কট্টরবিরোধীদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখতেন। কিন্তু তাদের ভুল বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে দ্বিধা করতেন না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও রাজনীতির সময় কট্টরবিরোধীদের সঙ্গেও শুধু সুসম্পর্ক নয়, অনেক সময় তাদের দেখভালও করেছেন। নাসিম ভাই সেই কাজটি করতেন। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং তার ছেলে তানভীর শাকিল জয় যেন আরও বড় নেতা হয়, সে প্রার্থনা করি।’
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় এমপি প্রমুখ।
