কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বিকল্প চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এফএলএডি) আইন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম গত সোমবার এ আবেদনটি করেন। এতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ ধরনের সুপারিশ কেন বৈষম্যমূলক, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুলের আর্জি জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল বেঞ্চ শুনানিকালে বলে, এ নিয়ে গেজেট না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না। আদালত রিট আবেদনের ওপর শুনানি চার সপ্তাহ স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখে।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফওজিয়া করিম ফিরোজ। সঙ্গে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী কাজী মারুফুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
শুনানিতে অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, সংবিধানে নারী পুরুষের সমান অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নারী পুরুষ ভেদে কারও প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। কিন্তু এ ধরনের সুপারিশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসময় আদালত বলে, এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সুপারিশ মাত্র। যেহেতু এ সংক্রান্ত গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি, তাই উচ্চ আদালত এখনই এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। বিষয়টি চার সপ্তাহ স্ট্যান্ডওভার থাকবে।
অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম ফিরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত রিটের ইস্যুটাকে গুরুত্ব দিয়েছে। শুনানিতে বলেছি, সংসদীয় কমিটির যে সুপারিশ এটা তো ফতোয়ার মতো হয়ে গেল। তারা তো এ ধরনের সুপারিশ করতে পারে না। আদালত বলেছে, যেহেতু এখনো গেজেট হয়নি তাই তারা এ বিষয়ে এখনই হস্তক্ষেপ করবে না। যদি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয় তখন তারা বিষয়টি দেখবে।’
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে নারী ইউএনওর বিকল্প চেয়ে গত রবিবার সুপারিশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
