সড়কের কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ০৯:২২ এএম

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি টাকা বাজেটের বাইম্যাখালী-সিকদার পাড়া সড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী থেকে সিকদারপাড়া পর্যন্ত ১২৫০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

ইতিমধ্যেই সড়কের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের ১৫ দিনের মাথায় উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। এ কারণে সম্পূর্ণ কার্পেটিং তুলে সড়কটি ফের নির্মাণের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, সড়কের কার্পেটিং কাজে সীমাহীন অনিয়ম হলেও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে সড়কের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী থেকে সিকদার পাড়া পর্যন্ত ১২৫০ মিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলছে।

গত ৪/৫ মাস পূর্বে সড়কের কার্পেটিং ও অন্যান্য কাজ শুরু করে ঠিকাদার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে সড়কের কাজটি বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ পান বান্দরবান জেলা শহরের ইউটিং মারমা নামের এক ঠিকাদার।

তবে ইউটিং মারমা সড়কের কাজ নিজে বাস্তবায়ন না করে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নিয়ে কাজটি বিক্রি করে দেন পারভেজ নামের চকরিয়ার এক ঠিকাদারকে।

এদিকে চকরিয়ার ওই ব্যক্তি ইউটিং মারমার কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি নিয়ে সড়কের কাজের শুরুতেই নানান অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে যেনতেনভাবে বাস্তবায়ন করছেন।

ইতিমধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সড়কে নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর ও বালু ব্যবহারের কারণে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

image

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজমগীর অভিযোগ করে বলেন, অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী সড়কের কাজ করেনি সাব ঠিকাদার পারভেজ।  সামান্য বৃষ্টির পানিতে সড়কে সমস্যা হয়েছে। কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

তিনি সড়কের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে সাব ঠিকাদার চকরিয়ার পারভেজ বলেন, বৃষ্টির কারণে সমস্যা হচ্ছে। এটি সব জায়গায় হচ্ছে। শুধু আমার বেলায় নয়। সড়কের কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

সাব ঠিকাদারি নিয়ে সড়কের কাজ বাস্তবায়নের নিয়ম রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউটিং মারমার পক্ষ হয়ে তিনি কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

একপর্যায়ে সড়কের অনিয়ম নিয়ে কোনো ধরনের রিপোর্ট না করার জন্য এ প্রতিবেদকের কাছে বিনীত অনুরোধ জানান সাব ঠিকাদার পারভেজ।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, পেকুয়া এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আয়াত উল্লাহ সড়কের কাজে নিয়োজিত সাব ঠিকাদার চকরিয়ার পারভেজের সঙ্গে কমিশনের বিনিময়ে আঁতাত করেছে।

সড়কের কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আয়াত উল্লাহ কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদারকে কাজে অনিয়মের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে পেকুয়া এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আয়াত উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সড়কের কাজের অনিয়ম নিয়ে কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি হননি।

তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, কক্সবাজারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সড়কের অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কয়েক দিনের মধ্যেই সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়কের অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হলে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত