মোংলায় একদিনে সংক্রমণের হার বেড়েছে ৪৩ শতাংশ

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ১০:৩৯ এএম

বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে মোংলা ইপিজেডের পাঁচ আনসার সদস্যসহ আরও ৭৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

২১২টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। যা গতদিনের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলাতে ২৩টি নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। সেখানে সংক্রমণের হার ৬৫ শতাংশ। যা গত ২৪ ঘণ্টার তুলনায় ৪৩  শতাংশ বেশি। (মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে বুধবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত)।

এই নিয়ে বাগেরহাট জেলায় করোনাভাইরাসে সংক্রমণে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬০০ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৯ জন বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়।

বাগেরহাটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ‘হটলাইনে ফোন করি, নমুনা সংগ্রহকারী যাবে আপনার বাড়ি’ এই স্লোগানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় রোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। মোংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলাতে এই সেবা চালু হয়েছে।

এদিকে, জেলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের চলাফেরা বেড়েছে। জনসমাগমের উৎসস্থল হাটবাজারে মানুষের ভিড়।

প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধ কেউ মানছেন না। নৌকাতে গাদাগাদি করে যাত্রী পারাপার চলছে। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসনের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ আজ ১৬ জুন শেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সংগ্রহ করা ২১২টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৩ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ৩৪ শতাংশ। যা গত ২৪ ঘণ্টার তুলনায় ৫ শতাংশ কম। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলাতে গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় ২৩টির মধ্যে ১৫টি পজিটিভ এসেছে।

মোংলায় সংক্রমণের হার ৬৫ শতাংশ। যা গতদিনের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। মোংলাতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, করোনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে উপসর্গ থাকা রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং তাকে শনাক্ত করা। যাতে একজন থেকে অন্যজনে রোগটি না ছড়ায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করার যে উদ্যোগটি বাগেরহাটের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় গ্রহণ করেছেন তা ভালো একটি উদ্যোগ।

করোনার সন্দেহভাজন রোগী যদি বাড়ি থেকে হাসপাতালে আসতে যায় তখন ওই রোগী কিন্তু সংক্রমণ ছড়াবে। অনেকে আবার কোথায় যাব কীভাবে যাব এই ভয়ে অনেকে আবার হাসপাতালে পরীক্ষা করতে আসে না।

এই উদ্যোগের ফলে আমরা বেশি বেশি রোগী শনাক্ত করতে পারব। এই শনাক্ত হওয়া রোগীদের আইসোলেশনে রাখতে পারলে রোগের বিস্তার অনেকটাই কম হবে।

জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা বেড়ে গেছে এই উদ্যোগ সংক্রমণ রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত