মুজিববর্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন সব অসহায় মানুষকে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন, এর আওতায় আরও সাড়ে ৫৩ হাজার পরিবার নতুন ঘর পেতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব ঘর দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আজ রবিবার বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা এসব ঘরের চাবি পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ঘর পেয়েছে ৬৯ হাজার ৯০৪টি পরিবার।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ভূমিহীনদের ভূমি ও গৃহহীনদের ঘরের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে সারা দেশে ৫৩ হাজার নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন উপকারভোগীদের হাতে।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়াকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ বলা যায়। বিশে^ এটা নতুন মডেল, আগে কখনো কেউ এটা ভাবেনি। সরকার অসহায় ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেবে বলেও জানান তিনি।
ঘর পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট বিভাগের ৬ হাজার ২১২টি; যার মধ্যে সিলেট জেলায় ১ হাজার ৯২, সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ৯৮০, হবিগঞ্জে ৪৪১ ও মৌলভীবাজারের ৬৯৯টি।
বগুড়া জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮৫৭টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। নাটোর জেলায় পাচ্ছে ১ হাজার ৩৮১ পরিবার। নওগাঁ জেলায় ৫০২ ভূমি ও গৃহহীন পরিবার। খাগড়াছড়ি জেলায় এ পর্যায়ে ১ হাজার ৯৬৩ পরিবারকে ঘর দেওয়া হবে। হবিগঞ্জ জেলায় এবার আরও ৩৫৫ পরিবারকে ঘর প্রদান করা হবে। রাঙ্গামাটি জেণায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর পাচ্ছে ৬২৩ পরিবার। শেরপুর জেলায় ১৬৭ পরিবার ঘর পাচ্ছে। গাজীপুরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২ পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হবে। নেত্রকোনা জেলায় এবার ৯২৫ পরিবার জমিসহ সেমিপাকা ঘর পাচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলায় এ দফায় ঘর পাবে ১ হাজার ৭০ পরিবার।
বাগেরহাট জেলায় এ পর্যায়ে ৬৪৫ পরিবার জমিসহ পাকা ঘর পাচ্ছে। কিশোরগঞ্জে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৩১ পরিবারকে ঘর দেওয়া হবে। কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) উপজেলায় এ পর্যায়ে ৩২৮ পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে। কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) উপজেলায় এবার ২০ পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হবে। আগৈলঝাড়া (বরিশাল) উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫ ভূমিহীন পরিবার ঘর পাচ্ছে। মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) উপজেলায় এবার ২২৫টি ঘর উদ্বোধন করা হবে। মতলব (চাঁদপুর) উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ ভূমিহীন পরিবার ঘর পাচ্ছে। লাকসাম (কুমিল্লা) উপজেলায় এবার ৩৫ পরিবার ঘর পাচ্ছে। নোয়াখালীর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে খাসজমি ও গৃহ প্রদান করা হবে।
