অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর পর টাকার বিনিময়ে আপস!

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ১১:৫৪ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, নার্স ও ম্যানেজারের হঠকারিতায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে ১ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। গত শনিবার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার হান্নানের মোড়ে অবস্থিত সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গৃহবধূর এক আত্মীয় এবং স্থানীয়রা জানান, সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক উজ্জ্বল হোসেন, ম্যানেজার আলতাফ হোসেন এবং দুই নার্স মিলে এক নারীর স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) করার সময় টেনেহিঁচড়ে নবজাতককে বের করতে গিয়ে মেরে ফেলেন। এ ঘটনার পরপরই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, ম্যানেজার ও কথিত নার্সরা গা ঢাকা দেন। গতকাল রবিবার সকালে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

সূত্র আরও জানায়, ঈশ্বরদী পৌরসভার আমবাগান ফেরদৌস কলোনি এলাকার ইমনের স্ত্রী স্মৃতির (২২) প্রসব বেদনা শুরু হলে গত শনিবার সকালে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে বাচ্চার অবস্থা দেখে সিজার করার পরামর্শ দেয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। এজন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক আসার আগেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, ম্যানেজার ও কথিত দুই নার্স ওই গৃহবধূকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে তারা জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে প্রসব করানোর চেষ্টাকালে নবজাতককে (মেয়ে) মেরে ফেলেন। টেনেহিঁচড়ে নবজাতককে বের করতে গিয়ে প্রসূতিও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার শরীরের কিছু অংশে কেটেছিঁড়ে যায় বলে একাধিক সূত্র জানায়। এ ঘটনার পর সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারকে ঘটনা প্রকাশ না করতে বাধ্য করে। এজন্য ১ লাখ টাকায় আপসরফা করে ওই নবজাতকের লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

এসব বিষয়ে সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে ফোন করা হলে প্রতিবেদককে হাসপাতালে এসে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে সেখানে গিয়ে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসেনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো অনুমোদন (লাইসেন্স) নেই। প্রতিষ্ঠানটি গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের সঙ্গে চিকিৎসার নামে চরমভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছে। নার্স হিসেবে যাদের রাখা হয়েছে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সনদ নেই এবং অনভিজ্ঞ।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রথম জীবনে উজ্জ্বল হোসেন ছিলেন একজন পশু চিকিৎসক। পরে তিনি সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হন। বাইরে তিনি রোগী আনাসহ বিভিন্ন সেক্টর ম্যানেজ করেন। আর প্রতিষ্ঠানের ভেতর দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী স্মৃতি খাতুন। এছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানে যেসব চিকিৎসক সেবা প্রদান করেন তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত