নকল মেসেঞ্জার চ্যাটের মাধ্যমে হবিগঞ্জর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর পরিচালক সেজে এক তরুণীকে হুমকি দেওয়ার অপরাধে এক কিশোরকে (১৬) হবিগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওই কিশোর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমানের পরামর্শে ও টাকার প্রলোভনে পড়ে এ কাজ করেছেন তিনি।
শুক্রবার সকালে পুলিশ তাকে আটক করে।
ওই কিশোর জানায়, তার সঙ্গে বিবাড়িয়ার এক তরুণীর ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রেম হয়। সম্প্রতি তাদের প্রেমের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় পূর্বপরিচিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমানকে বিষয়টি অবগত করে সে। সাইদুর রহমান ‘ফেক চ্যাট মেসেঞ্জার অ্যাপস’ ডাউনলোড করে দেন তাকে। তিনি কিশোরকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম হয়ে মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে ম্যাসেজ পাঠানোর পরামর্শ দেন।
কিশোর আরো জানায়, তার পরামর্শে সে বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোতাচ্ছিরুল ইসলাম সেজে হুমকি দিয়ে ম্যাসেজ পাঠায়। হুমকির বিষয়টি তরুণী মোতাচ্ছিরুল ইসলামের ভাতিজা ইমরানকে জানান। ইমরান এবং ওই তরুণী ফেইসবুক ফ্রেন্ড। তার মাধ্যমে ওই কিশোরের ফেইসবুক আইডি পাওয়ার পর দেখা যায় ইমরানের সঙ্গে শয়ন নামে হবিগঞ্জের এক ব্যবসায়ী মিউচুয়াল ফ্রেন্ড রয়েছেন। পরে ইমরান তার বন্ধু ঝলকের মাধ্যমে শয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিশোরের পরিচয় নিশ্চিত হন।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শয়নের সহযোগিতায় ওই কিশোরকে আনা হয় মোতাচ্ছিরুল ইসলামের বাসায়। বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিস্তারিত বিবরণ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পুলিশকে খুলে বলে। ওই কিশোর জানায়, মোতাচ্ছিরুল ইসলামের নামে ওই তরুণীকে হুমকির মেসেজ পাঠাতে তাকে ছাত্রলীগ নেতা সাইদুর টাকা দেওয়ারও প্রলোভন দেন।
আরো জানা যায়, কিশোরের বক্তব্য সঠিক কিনা তা যাচাই করতে তাকে দিয়ে সাইদুরকে মোবাইল করানো হয়। সাইদুর তাকে (শুক্রবার) বিকেলে দেখা করার জন্য বলেন।
এ প্রসঙ্গে মোতাচ্ছিরুল ইসলাম বলেন, একটি মহল আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করছে। যার একটি প্রমাণ এ ঘটনা। ঘটনাটি ধরা পড়ায় স্বস্তি পাচ্ছি। হয়তো বড় ধরনের বিপদে পড়তাম।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ছেলেকে আমি চিনি না। আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমাকে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বলছেন। জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টির জন্য একটি নাটক সাজানো হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলি জানান, ওই কিশোরকে থানায় আনা হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলা হয়নি।
