রাজধানীর গুলশানে লাশ উদ্ধার হওয়া মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুকে পুঁজি করে একটি মহল সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুনিয়ার মৃত্যুর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি আকস্মিকভাবে একজন সাধারণ তরুণীর মৃত্যুকে রাষ্ট্রীয় ইস্যু বানানোর চেষ্টা করে। মুনিয়া ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারা সরকারকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুনিয়া ইস্যু নিয়ে যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে সেগুলো সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা বলে অপরাধ বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনাটি এমন একটি সময় হয়েছে যখন সরকার হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপী তাণ্ডব ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছিল। বিশেষ করে হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির নেতা মামুনুল হকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কাজ করছিল, তখনই মুনিয়ার ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসা হয়। কেউ কেউ ধারণা করছেন, হেফাজতের ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য মুনিয়ার ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। হেফাজতের তাণ্ডব ও সহিংসতা চলাকালে প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোও সরব ও সক্রিয় ভূমিকা রাখছিল। এ অবস্থায় জনসাধারণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরাতে হেফাজতের পক্ষাবলম্বনকারী গোষ্ঠী এই ইস্যুকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলতে থাকে। তারা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল যে জনগণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকার হেফাজত ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামাতে না পারে।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, ফেইসবুক ও ইউটিউবে যারা মুনিয়া ইস্যুতে নানা কুৎসা ছড়াচ্ছে এর আগেও তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে কুৎসা রটনা করেছে। তাই ধারণা করা যায়, এটি একটি ইস্যু তৈরি করে সরকারকে চাপে ফেলার অপচেষ্টা। তাদের এ অপচেষ্টায় রসদ দিচ্ছেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া ও তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান সামি।
গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে মুনিয়া নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তার বড় বোন নুসরাত একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। এর কয়েক দিন পর মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ আদালতে আরও একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলা দুটিকে সামনে রেখে মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে গুলশান থানা পুলিশ।
