সুনামগঞ্জে গত বর্ষা মৌসুমে তিন দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয় সড়কগুলোর। পানির প্রবল তোড়ে যে কয়টি সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয় তার একটি ছাতক উপজেলার নোয়াগাঁও সড়ক ও সেতুর। কিন্তু এক বছরেও সেতু ও সড়ক সংস্কার না হওয়ায় সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতক উপজেলার মধ্যে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে লাখো মানুষকে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, গেল বছরের জুন ও জুলাই মাসে পর পর তিন দফা বন্যার কবলে পড়ে সুনামগঞ্জ জেলা। ওই সময় পানির তোড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয় নোয়াগাঁও সড়ক ও সেতুর। জেলায় এলজিইডির প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই বন্যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের। এছাড়া সড়কটির নোয়াগাঁও এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ সেতু ভেঙে পড়ে। ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক পানির তোড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এরপর থেকেই ভাঙা সড়ক দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। গত এক বছরেও মেরামত করা হয়নি ভেঙে যাওয়া সড়ক ও সেতুটি। এতে চরম ভোগান্তিতে সুনামগঞ্জ-ছাতক ও দোয়ারাবাজারের কয়েক লাখ মানুষ।
নোয়াগাঁও গ্রামের হাবিব রহমান বলেন ‘গত এক বছর ধরে এই সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকায় মানুষকে ফসলি জমি দিয়ে চলাচল করতে হয়। আর বৃষ্টি হলেই সেখানে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়’।
এ সড়কে চলাচলকারী আবুল কাহার বলেন ‘ছাতকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। প্রতিদিন এ ভাঙা সড়ক এবং সেতুর পাশ দিয়ে চরম কষ্টে চলাচলে সময় বেশি লাগে। এ ছাড়া সেতু ভাঙা থাকায় সুনামগঞ্জ থেকে ৩টি যানবাহন বদলে ছাতকে যেতে হয়। এতে ভাড়াও বেশি লাগছে।’
পরিবহন চালক দিলাল মিয়া জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে তেমনি এখানে গাড়ি চালাতে গিয়ে গাড়ির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়ক ও সেতুটি দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক আর সেতুটি মেরামতের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুদান এলেই সেখানে সড়ক ও সেতুটির মেরামত কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
