করোনাকালে দেশে দেড় কোটির অধিক শ্রমজীবী চাকরি হারিয়েছে: বিলস

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ০৭:৩০ পিএম

কভিড মহামারির সময়ে দেশে দেড় কোটির অধিক শ্রমজীবী মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে ‘লেবার রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার’ (বিলস) নামের একটি সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রবিবার দুপুরে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এতে কভিডকালীন সময়ে বিভিন্ন খাতের শ্রমজীবীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশে ৪০ লাখ নির্মাণ শ্রমিক, কয়েক লাখ কমিউনিটি সেন্টার, ডেকোরেটর হলের শ্রমিক বিগত দেড় বছর কর্মহীন। মাসের পর মাস হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় ১০ লাখ শ্রমিক কর্মচ্যুত। কভিডের কারণে মিছিল, আন্দোলন না থাকায় এই সুযোগে মালিকপক্ষ পাওনা না দিয়েই কারখানা থেকে বের করে দিচ্ছে শ্রমিকদের।

কভিডের কারণে আগে দেশের ১২% লোক অতি দরিদ্র সীমা ও ২০% দরিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করত। সেই সংখ্যা বর্তমানে দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। প্রায় দেড় কোটির অধিক শ্রমজীবী মানুষ চাকরি হারিয়েছে।

দেশের ৭৭টি পাটকলের মধ্যে সরকারি ২৪টি বন্ধ। প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী ও ২০ হাজার বদলি শ্রমিক চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব। ২ মাসের মধ্যে তাদের পাওয়া পরিশোধের কথা বলা হলেও তা এখনো পায়নি অধিকাংশ শ্রমিক। শিপ ব্রেকিং, পরিবহনের লাখ লাখ শ্রমিকদের দুরবস্থা চরম, এসব শ্রমিক কাজে যোগ দিলে মজুরি পায়। অথচ বর্তমানে তাদের দুরবস্থা অবর্ণনীয়। সরকারি সাহায্যও অপ্রতুল।

সংস্থাটি কভিড সময়ে চট্টগ্রামের ৬টি খাতের শ্রমজীবীদের ওপর প্রভাব বিষয়ক অপর এক গবেষণায় দেখা যায়- ৯৮% হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ৯০% পরিবহন ও নির্মাণ শ্রমিক, ৫৯% বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক, ৫৬% গার্মেন্টস শ্রমিক, ৩১% বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের শ্রমিক এবং সকল খাতের ৭০% শ্রমিক কভিডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের মধ্যে ৭০% শ্রমিক জমানো টাকা ব্যয় করেছে, ৫৩% শ্রমিক ধারদেনা, ৭% শ্রমিক সম্পদ বিক্রি করে, ২৯% শ্রমিক অর্ধাহারে, ১০% শ্রমিক মাঝেমধ্যে না খেয়ে এই মহামারি মোকাবিলা করছে।

বিলস লেবার রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি নাজিম উদ্দিন জানান, গার্মেন্টস ও স্বাস্থ্য খাতের মালিকেরা শ্রম আইন মানে না। নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ছাড়া শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করে। শিপ ব্রেকিং, নির্মাণ খাতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মালিকপক্ষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করে না। তিনি বলেন, করোনার কারণে শ্রম আদালতের কার্যক্রম বন্ধ। যার ফলে মালিকরা আরও বেপরোয়া। ফলে শ্রমিকরা আইনি প্রতিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংস্থাটির সদস্যসচিব ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শফর আলী বলেন, শ্রমিকদের আপত্কালীন অবস্থা মোকাবিলার জন্য কল্যাণ তহবিল ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয় ও বিমা স্কিম প্রণয়নের বিকল্প নেই। শ্রমজীবীদের বাঁচাতে সরকারকে আগের মতো রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে চাল ডাল তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবস্থা রাখার দাবি জানাই। উন্নয়নমূলক কাজের গতি বৃদ্ধি করে বেকার মানুষের কর্মসংস্থা ব্যবস্থা হলে মানুষ খেয়ে পড়ে বাঁচবে। এই সময়ে গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সংবলিত আইন সংশোধন করা খুব প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত