প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ইতিহাস নয়, একটি জনপদের মানুষের সব প্রতিকূলতা উপড়ে ফেলে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ানোর ইতিহাস, পশ্চাৎমুখী এই জনপদের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন ও উত্থানের ইতিহাস। জাতীয় শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। এ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল তুলনাহীন। এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে লিখতে গেলে অল্প কথায় লেখা সম্ভব নয়; একাধিক পর্বে হয়তো তা সম্ভব হতে পারে। আগামী ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হবে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনের ঘটনা মোটেও সুখকর ছিল না। প্রবল বাধা-বিপত্তি ও সময়ক্ষেপণের মধ্য দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে কলকাতাকেন্দ্রিক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের প্রবল বাধা অতিক্রম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ বাতিল হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে থাকা অবহেলিত মুসলমানদের শিক্ষার জন্য বিশেষ সংস্কারের প্রস্তাব করেন। নবাব সলিমুল্লাহর চিঠিকে ভাইসরয় খুবই গুরুত্ব দেন এবং নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যৌক্তিক ও সময়ের দাবি। ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে একটি মুসলমান প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর জমিদার নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তাদের এই সাক্ষাতের দুদিন পর ২ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণার পরপর কলকাতার তথাকথিত হিন্দু-বুদ্ধিজীবীরা বিরোধিতা শুরু করেন। তারা শঙ্কিত হন এই ভেবে যে, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থহানি ঘটবে। ঢাকায় উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা হলে এখানকার তরুণরা কলকাতায় পড়তে যাবে না, তাতে কলকাতার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ও কমে যাবে। ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফি থেকে যে আয় হতো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সে আয়ও কমে যাবে, কারণ পূর্ববঙ্গের ছাত্রদের পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব পাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত দীনেশচন্দ্র সিংহের লেখা একটি প্রতিবেদনেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তিনি লিখেছেন, ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হাইস্কুলগুলোর দুই-তৃতীয়াংশই ছিল পূর্ববঙ্গে। এসব স্কুলের ছাত্ররাই ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার ফি দিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের সিংহভাগ জোগাত। তাই এসব স্কুল ও কলেজগুলোকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পূর্ববঙ্গে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হলে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দিব্যি ভাতে মারা যাবে।’
মুসলমান প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের পর ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যপন্থি কংগ্রেস সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি হিন্দু বুদ্ধিজীবী প্রতিনিধিদল লর্ড হার্ডিঞ্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে তা ‘বাঙালি জাতি’র কোনো উপকারে আসবে না। যে উদ্দেশ্যে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নতুন প্রদেশ বাতিল করা হলো, তা অর্থহীন হয়ে যাবে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় ‘মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হলে তা হবে এক ধরনের ‘অভ্যন্তরীণ বঙ্গ বিভাগ’। লর্ড হার্ডিঞ্জ তাদের আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটি সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সমান সুযোগ পাবে। লর্ড হার্ডিঞ্জের এ কথা শুনে হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা আশ্বস্ত তো হলেনই না বরং অসন্তুষ্ট চিত্তে ফিরে গেলেন। এ প্রসঙ্গে আরও একটি উদাহরণ উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি, তা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও পরে বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আশুতোষ ভট্টাচার্যের উক্তি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির আমন্ত্রণে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে তিনি তার দীর্ঘ স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের তীব্র বিরোধিতা সম্পর্কে বলেন, ‘তারা সেদিন সম্প্রদায়ের স্বার্থে নয়, ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে বিরোধিতা করেছিলেন, তা ছিল মারাত্মক ভুল।’ তার নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা নোংরামির একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষের বিষয়টিও তারা সেদিন টেনে এনেছিলেন।’ আশুতোষ বলেন, “কলকাতার নেতারা বলে বেড়াতেন এই ‘মক্কা’, ‘ফাক্কা’, ‘ঢাক্কা’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কারসাজি হলো তিন ইহুদির। তারা হলেন উপাচার্য হার্টগ, গভর্নর জেনারেল লর্ড রিডিং এবং সরকারের সচিব ই মন্টেগু। এই বিশ্ববিদ্যালয় টিকবে না। এভাবে ইহুদি প্রসঙ্গ টেনে এনে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে সরে আসার ব্যাপারে মুসলমানদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করা হয়।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষই করেনি। বিরোধিতাকারীদের মধ্যে মুসলমান সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরাও ছিলেন। এই বিরোধিতায় তিন ধরনের মতবাদ পরিলক্ষিত হয় :
১. পশ্চিমবঙ্গের কিছু মুসলমান মনে করেছিলেন, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের কোনো লাভ হবে না। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদেরই লাভ হবে।
২. পূর্ববঙ্গের কোনো কোনো মুসলমান মনে করেছিলেন, এই অঞ্চলের খুব অল্পসংখ্যক ছাত্রই স্কুলপর্যায়ে পাস করতে পারে। কলেজ পর্যায়ে তাদের ছাত্রসংখ্যা খুবই কম। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেখানে মুসলমান ছাত্রদের সংখ্যাও খুবই কম হবে। বরং পূর্ববঙ্গে আরও প্রাইমারি এবং হাইস্কুল হলে সেখানে পড়াশোনা করে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়বে। আগে সেটা দরকার। আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে তারা মনে করেছিলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে মুসলমানদের জন্য যে সরকারি বাজেট বরাদ্দ আছে তা থেকে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই ব্যয় হয়ে যাবে। নতুন করে প্রাইমারি বা হাইস্কুল হবে না। যেগুলো আছে সেগুলোও অর্থের অভাবে ভুগবে।
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উত্তর ও মধ্য প্রদেশের অবাঙালি মুসলমান নেতাদেরও বিশেষ আগ্রহ ছিল না। তারা মনে করতেন, এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা আলিগড়ে আর পড়তে আসবে না। তাতে আলিগড় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিত্তবান মুসলমানরা আলিগড়কে আর সাহায্য করবে না।
আগেই বলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পূর্ববঙ্গের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদরা নানা প্রকার প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯১৫ সালে সলিমুল্লাহর মৃত্যু ঘটলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর জমিদার নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী শক্ত হাতে এই উদ্যোগের হাল ধরেন। অন্যদের মধ্যে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পূর্ববঙ্গের হিন্দুরাও এগিয়ে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বলিয়াদির জমিদার কিশোরী লাল রায় চৌধুরী অন্যতম। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ The Dacca University Act, 1920 আইন আকারে পাস হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনের সময় যে প্রাণচাঞ্চল্য এসেছিল, তার চেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্য এসেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়।
১৯২১ সালের ১ জুলাই ২৮ জন কলা, ১৭ জন বিজ্ঞান এবং ১৫ জন আইনের শিক্ষক নিয়ে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হয় কার্জন হলে। ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ কলেজের (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ডিগ্রি ক্লাসে অধ্যয়নরত ছাত্রদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। শুধু ছাত্র নয়, শিক্ষক এবং লাইব্রেরির বই ও অন্যান্য উপকরণ দিয়েও এই দুটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক গভর্নর আলেকজান্ডার জর্জ রবার্ট বুয়ার লিটন। প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন পি জে হার্টগ। তিনি সতেরো বছর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ছিলেন। ধর্মীয় পরিচয়ে হার্টগ ছিলেন একজন ইহুদি, জাতিতে ব্রিটিশ। খান বাহাদুর নাজিরউদ্দিন আহমেদ ছিলেন প্রথম রেজিস্ট্রার আর ট্রেজারার নিযুক্ত হয়েছিলেন নবাব পরিবারের খাজা শাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বঙ্গবন্ধু কর্র্তৃক জাতিসংঘে নিয়োজিত বাংলাদেশের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট জেনারেল খাজা ওয়াসিউদ্দিনের পিতা। যেসব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ সি টার্নার, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি এইচ ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ এ জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ এফ রহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ অন্যতম।
১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে নতুন প্রদেশ গঠনের পরবর্তী ছয়টি বছরে পূর্ববঙ্গের মানুষের, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য ছিল। আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে বাঙালি মুসলমান উদাসীন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তারা আধুনিক শিক্ষার স্বাদ পায় এবং এই আধুনিক শিক্ষার সুবিধা নিয়ে তাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে শুধু আর্থিক উন্নতি নয়, একটি সংস্কৃতিমান মধ্যশ্রেণি গড়ে উঠতে থাকে। যে মধ্যশ্রেণির সদস্যরাই সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে ভূমিকা রাখেন। এই মধ্যশ্রেণির সদস্যরাই বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে অপসংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে এ দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-কৃষ্টিকে রক্ষা করে এগিয়ে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের হাত ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দেশে আজ পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষকদের দ্বারাই আজ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানে যে অবস্থানেই থাকুক না কেন দেশের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজও সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
লেখক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা
