যশোর সদর উপজেলা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিন দু’শর কাছাকাছি এর বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শয্যার চেয়ে বেশি রোগী। তবে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির করোনা সংক্রমণ রোধে আরোপিত বিধিনিষেধের প্রতি জনসচেতনতা খুবই কম।
এ জেলায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০২ জন। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩০৪। এর মধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭৮ জন।
এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে তিনজন মারা গেছেন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো নয়জন। বুধবার শনাক্তের হার ৪১ শতাংশ।
যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে প্রশাসনের নানা উদ্যোগ চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এ ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়াবহতার বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে পারছেন না। জুন মাসের শুরু থেকেই যশোরে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখি। বর্তমানে এ সংক্রমণের হার ৪৭ শতাংশের ওপরে।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে শহর অঞ্চলে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও পরে গ্রামেও শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। গ্রাম অঞ্চলের মানুষ উপসর্গকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, যে কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করছি। কারো যদি উপসর্গ থাকে তাহলে তারা যেন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। আমাদের টেলিমেডিসিন আছে, সেখান ফোন দিয়ে চিকিৎসা নেয়া একেবারেই সহজ। সঠিক সময়ে যদি ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া হয় তবে করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ মানুষের এ মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব। কিন্তু মানুষ তা মানতে চান না।
জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির মুখপাত্র যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, সংক্রমণ রোধে এখন একমাত্র উপায় জনসচেতনতা। আমরা যশোর জেলায় কঠোর লকডাউন কার্যকর করে চলেছি। আশা করেছিলাম সংক্রমণের হার কমবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের অসচেতনতা এবং বেপরোয়া চলাফেরার কারণে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি হ্রাস পায়নি। আমরা আশা করব যশোরের মানুষ আরো সচেতন হবে। করোনার সংক্রমণ রোধে মানুষ ঘরে থাকবে।
এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৮০ শয্যার বিপরীতে বুধবার চিকিৎসাধীন ছিলেন ৯৯ জন। মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ৯১ জন। অপর দিকে হাসপাতালের করোনা ইয়েলো জোনে ৪০ শয্যার বিপরীতে বুধবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল ৫০। মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ৬৮।
প্রতিদিনই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের রেড ও ইয়েলো জোনে অতিরিক্ত রোগী ভর্তির চাপ রয়েছে বলে জানান জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক মো. আখতারুজ্জামান।
তিনি বলেন, যশোর জেনারেল হসপিটালে করোনা রোগীর চাপ বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তার ও নার্স সংকট রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ছয় হাজার লিটারের হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা অক্সিজেন সিলিন্ডার চালু করা হয়েছে।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা.রেহনেওয়াজ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেনারেল হাসপাতালে তিন জন করোনা ও নয়জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার এ হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু হয় আট জনের। যা ছিল খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ। এ দিন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় চারজনের।
