পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ হবে। জাপানি কোম্পানি মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানিটিতে এ বিনিয়োগ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ দিয়ে বন্ধ থাকা এমারেল্ড অয়েলের কারখানা উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আশা করছে, শিগগিরই কোম্পানিটি উৎপাদনে ফিরে আসবে। আর কোম্পানিটির উৎপাদিত পণ্যের প্রায় পুরোটাই রপ্তানি করা হবে জাপানে। এসইসি ও কোম্পানিসংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছর ৩ মার্চ ঋণ জালিয়াতির মামলায় পলাতক উদ্যোক্তাদের কোম্পানি এমারেল্ড অয়েলের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে এসইসি। কোম্পানিটির সে সময়কার পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে পাঁচজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে পর্ষদ পুনর্গঠন করে কমিশন। এ পুনর্গঠিত পর্ষদে ইতিমধ্যেই মিনোরি বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পর্ষদই মিনোরি বাংলাদেশের বিনিয়োগে এমারেল্ড অয়েলকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নেপথ্যে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে এসইসি।
ইতিমধ্যেই মিনোরি বাংলাদেশকে এমারেল্ড অয়েলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কোম্পানিটিতে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। কারখানা পুনর্গঠনে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ২০০ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। বিদেশ থেকে প্রকৌশলী এনে কারখানার যন্ত্রপাতি মেরামত করে উৎপাদন উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
ধানের কুঁড়া থেকে ভোজ্য তেল (রাইস ব্রান অয়েল) উৎপাদন করে এমারেল্ড অয়েল। জাপানের প্রধান ভোজ্য তেল হওয়ায় দেশটিতে এ তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জানা গেছে, মিনোরি বাংলাদেশের উদ্যোক্তা জাপানে রাইস ব্রান অয়েল সরবরাহের ব্যবসা করে। প্রতিষ্ঠানটি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এ তেল সংগ্রহ করে জাপানে সরবরাহ করে। এতে খরচও অনেক বেশি। এখন দেশে এ তেল উৎপাদন করে জাপানে রপ্তানির যে উদ্যোগ নিয়েছে মিনোরি, তাতে করে এমারেল্ড অয়েল ভালো মুনাফা করতে পারবে বলে মনে করছেন বর্তমান পর্ষদ সদস্যরা। অন্যান্য দেশের চেয়ে দেশে রাইস ব্রান অয়েলের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম।
সম্প্রতি এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের উদ্যোগে এমারেল্ড অয়েলের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এসইসিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান ছাড়াও কমিশনার শেখ সামছুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভায় এমারেল্ড অয়েলের পরিচালনা পর্ষদ থেকে বেসিক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার কাছে ঋণের সুদ মওকুফের দাবি জানায়। একই সঙ্গে সুদ মওকুফের পর ঋণের মূল টাকা ১০ বছরে পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পর্ষদের এ প্রস্তাবে এসইসিও সমর্থন দিয়েছে। জানা গেছে, খেলাপি হয়ে থাকা এসব ঋণ নিয়মিতকরণে এমারেল্ড অয়েলের প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে বেসিক ব্যাংক। আর ব্যাংক এশিয়াও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে।
বেসিক ব্যাংক সুদসহ প্রায় ১০০ কোটি টাকা পাবে। আর ব্যাংক এশিয়া সুদসহ পাবে ২৬ কোটি টাকা। সুদ বাদ দেওয়া হলে এ দুই ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ৮০ কোটি টাকারও নিচে নেমে আসবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যাংক ঋণের দায় নেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে মিনোরি বাংলাদেশ। এর বিনিময়ে আগের পর্ষদের ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে মিনোরির নামে স্থানান্তর করা হবে। বর্তমানে এমারেল্ড অয়েলের ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ শেয়ার রয়েছে মিনোরির হাতে, যা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
এমারেল্ড অয়েলে মিনোরি বাংলাদেশের বিনিয়োগ বিষয়ে এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যাংকগুলোকে ডেকে এনে নতুন বোর্ডের সঙ্গে বসিয়ে অনেক কিছু ঠিক করে দিয়েছি আমরা। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা করছে বর্তমান পর্ষদ। কোম্পানিটির পুনর্গঠনে এসইসি থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। বিদেশি যে প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে, তা দিয়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি কারখানা মেরামত করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই তারা উৎপাদনে যেতে পারবে। আর এ কোম্পানি যে রাইস ব্রান অয়েল উৎপাদন করে, সেটি জাপানে রপ্তানি করবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি।
শিবলী রুবাইয়াত আরও বলেন, আগের পর্ষদের ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা কর্মকা-ে কোম্পানির অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন সবকিছু সামাল দিতে হলে পুরনো পর্ষদের ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারীর অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার কারণে ২০১৬ সালের ২৭ জুন থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এমারেল্ড অয়েলের। তালিকাভুক্ত বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এসইসি। এরই অংশ হিসেবে এ কোম্পানি চালু হচ্ছে। এর আগে কমিশনের উদ্যোগে আলহাজ টেক্সটাইল ও রিংসাইন টেক্সটাইল উৎপাদনে ফিরেছে।
