চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যমজ দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো শহরের কালিতলার ব্যবসায়ী সাদিকুল ইসলাম রবির মেয়ে স্বর্ণা (১৭) ও সম্পা (১৭)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় স্বর্ণা এবং দুপুর দেড়টার দিকে সম্পার মৃত্যু হয়। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল।
পরিবারের দাবি, শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একটি হোটেল থেকে মোগলাই পরোটা এনে খাওয়ার পর বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে স্বর্ণা ও সম্পার মৃত্যু হয়।
স্বর্ণা ও সম্পার বাবা সাদিকুল ইসলাম রবি জানান, শহরের হোটেল শাহজাহান সুইটস থেকে সোমবার বিকেলে মোগলাই পরোটা কিনে বাড়িতে এনে তিনিসহ সবাই খান। রাতে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, দুই মেয়ে ও আত্মীয় সিফাত অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে স্বর্ণা ও তার মাকে চিকিৎসা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। আর সম্পা ও সিফাতকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়। বাড়ি আসার পর স্বর্ণার মৃত্যু হয়। আর হাসপাতালে ভর্তি সম্পার অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথে দুপুর দেড়টার দিকে সম্পার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। মোগলাই খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাতে তাদের পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয়। এরপর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোসা. নুরুন্নাহার নাসু বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল ৯টার দিকে স্বর্ণাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে ভর্তি সম্পার প্রচণ্ড পেট ব্যথা ও বমি হচ্ছিল। কোনোভাবেই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় আমরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করি।’
হোটেল শাহজাহান সুইটসের মালিক জামাল উদ্দিন নাসের বলেন, ‘আমার দোকানের মোগলাই পরোটা খেয়ে কারও অসুস্থতার খবর জানা নেই। আর সাদিকুল ইসলাম আমার দোকান থেকেই মোগলাই পরোটা কিনেছেন, তা সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখলে বলতে পারব।’
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মিন্টু রহমান জানান, তারাও যমজ কিশোরীর মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
