ফোন করলেই পৌঁছে যাচ্ছে মুশা মিয়ার বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ০৪:৪০ পিএম

ফোন করে কোনো করোনা রোগীর অসহায় পরিবার জরুরি অক্সিজেনের চাহিদা জানালে তার বাড়িতে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হয় সিলিন্ডার। সাথে আক্রান্ত রোগীর জন্য ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল, করোনা সুরক্ষাসামগ্রী হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, মাস্ক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে যায় ওই পরিবারে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকে এই মানবিক কাজটি করছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা পরিষদ তিনবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএম মোশাররফ হোসেন মুশা মিয়া।

তিনি নিজ এলাকার করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়াতে ব্যক্তি উদ্যোগে এমন মানবিক সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছেন।

তার পক্ষ থেকে একদল স্বেচ্ছাসেবক করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার, সুরক্ষাসামগ্রী, ফলমূল ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে।

এই স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম বাকের ইদ্রিস জানান, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়া শুরু হয়েছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীকে জরুরি অক্সিজেন দিয়ে সহায়তা করছি আমরা।

বোয়ালমারীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জহুরুল হক জানান, এই দুর্যোগে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, নিজেদেরও কিছু সামাজিক ও মানবিক কাজ করতে হবে যাদের সামর্থ্য রয়েছে।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, আমাদের উপজেলা হাসপাতালে এমনিতেই অক্সিজেনের স্বল্পতা রয়েছে। তাই করোনা রোগীদের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের বিনামূল্যে অক্সিজেন সহায়তা ও ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল দেওয়া একটি ব্যতিক্রমী মানবিক সহায়তা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএম মোশাররফ হোসেন বলেন, এ বছর আমি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে এলাকায় এ পর্যন্ত জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত চার শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে ফলমূল, সুরক্ষাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিয়েছি।

গত বছর করোনা শুরু হলে আমি একইভাবে কয়েক হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হই। এ বছর একদল স্বেচ্ছাসেবক এ কাজে আমাকে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, যখন আমি নিজে করোনায় আক্রান্ত ছিলাম তখন সেই কষ্টে কথাটি মনে করে মানুষের বিপদে এগিয়ে এসেছি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার মুশা মিয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জেলার নয় উপজেলাতে যদি এভাবে সামর্থবানরা এগিয়ে আসে তাহলে করোনার এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো। কেউ দুর্যোগের এই সময়ে অনাহারে বা চিকিৎসার অভাবে পড়বে না।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর পিসিআর ল্যাবে ৩৭৩ নমুনা পরীক্ষার মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১৭৯ জন। এই সময়ে করোনায় মারা গেছে ছয় ব্যক্তি। শনাক্তের হার ৪৮ শতাংশ।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের আইসিইউ ওয়ার্ডে ১৫ জন এবং সাধারণ করোনা ওয়ার্ডে আরও ২৮২ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।        

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত