আলোকচিত্রশিল্পী গোলাম মোস্তফা আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একুশে পদকপ্রাপ্ত এ ব্যক্তিত্ব বার্ধক্যজনিত জটিলতায় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মারা গেছেন।
রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
১৯৬৪ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রে যোগদান করেন গোলাম মোস্তফা এবং ১৯৯৮ সালে বিটিভি থেকে পরিচালক পদে অবসর নেন।
গোলাম মোস্তফার ছাত্র ও একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শামসুল হুদা দেশ রূপান্তরকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার বেলা ১২টায় শামসুল হুদা বলেন, দাফনের ব্যাপারে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
গোলাম মোস্তফা একমাত্র বাংলাদেশি ক্যামেরাম্যান হিসেবে ডিআইটি ভবনে অবস্থিত তদানীন্তন পুর্ব পাকিস্তান টেলিভিশনের যোগদান করেছিলেন।
গোলাম মোস্তফা ১৯৪১ সালের ৩০ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া ভাগের পর দাদার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলে যান। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের বার একাডেমি স্কুল ও ঢাকার জগন্নাথ কলেজে লেখাপড়া করেন।
খ্যাতিমান আলোকচিত্রশিল্পী মনজুর আলম বেগের সান্নিধ্যে এসে তার শিল্পসত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ইউএসআইএসে খণ্ডকালীন চাকরি নেন গোলাম মোস্তফা। কর্মজীবনে তিনি আমেরিকান দূতাবাস ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সহ-সভাপতি এবং দুই বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বরেণ্য এই আলোকচিত্রী বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিএস)-র সম্মানিত স্থায়ী পরিষদ প্রধান। ‘ফটোগ্রাফি’ পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। আলোকচিত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক (২০১৮) লাভ করেন গোলাম মোস্তফা। ২০১৬ সালে শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
