বাঁশের সাঁকোই ভরসা ৭ গ্রামের মানুষের

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ০১:৩০ এএম

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অন্তত ৭টি গ্রামের মানুষ। উপজেলার পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কের ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এখন এই বাঁশের সাঁকোটিই ওই ৭ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের লাড়–গ্রামের এই অংশেই আজ থেকে ২০ বছর আগে ধলেশ্বরী নদী বহমান ছিল। নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে পূর্বদিকে সরে গেছে। আর এখানে রয়ে গেছে সরু খালের মতো শাখা নদী। নদীর পাশেই জেগে ওঠা চরে ধীরে ধীরে মানুষ বসতি গড়তে শুরু করে। এখন আশপাশের ৭টি গ্রামের মানুষের উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র উপায় পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কটি। এই সড়ক দিয়ে পংবাইজোড়া, লাড়ুগ্রাম, দেইল্লা, স্বল্প লাড়ুগ্রাম, নিউ চৌহলী পাড়া, পংবড়টিয়া ও ঘুণি গ্রামের স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীসহ শত শত পথচারী প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোত থাকায় সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এছাড়া আবাদি কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষকে।

সরেজমিন দেখা যায়, কয়েক বছরের পুরনো বাঁশের সাঁকোটিতে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। স্থানীয় কয়েকজনকে সাঁকোটি সংস্কার করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় রফিকুজ্জামান বলেন, ‘একটি সেতুর অভাবে আমরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি। সব এলাকার উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকার হয় না। শুধু একটি সেতুর অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। সরকার যেহেতু কিছু করছে না, তাই নিজেরাই সাঁকো মেরামত করছি। হাটবাজারে তো যেতে হবে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিন খান রাজা বলেন, ‘তিন বছর আগে স্থানীয়ভাবে আমরা বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছি। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।’

পংবড়টিয়া গ্রামের জয়নাল মিয়া জানান, ‘বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। প্রসূতি রোগীকেও জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া সম্ভব হয় না। একটি সেতু হলে আমাদের খুবই উপকার হয়।’

এ প্রসঙ্গে মোকনা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান খান কোকা বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে একাধিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে ১৫০ ফুট সেতুর পরিমাপ করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কে জরুরি ভিত্তিতে সেতু নির্মাণ এখন আমাদের প্রাণের দাবি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত