৪ কিংবদন্তিকে ছাপিয়ে যেতে পারবেন মেসি?

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ১২:৫১ এএম

বার্সেলোনার সঙ্গে পাঁচ বছরের নতুন চুক্তি করতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির জন্য বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক কমাতে রাজি হতে হয়েছে তাকে। কত বেতন কমাতে হয়েছে প্রশ্ন সেটা নয়। প্রশ্ন একটাই আগামী পাঁচ বছরের জন্য কাতালান ক্লাবে বা শর্ত অনুযায়ী শেষ তিন বছর ইন্টার মিয়ামিতে কেমন খেলবেন মেসি? এখন তার বয়স ৩৪। পাঁচ বছর পর ৩৯ হবে। একজন আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলারের জন্য যা বুড়ো বয়স। এই বয়সে আর কোনো কিংবদন্তি কি সেরা পর্যায়ের ফুটবল খেলেছেন? কিংবদন্তি বলতে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, পেলে, ইয়োহান ক্রুইফ এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতোদের কথা বলা হচ্ছে। 

জন্মসূত্রে মেসির স্বদেশি, কিংবদন্তির আলফ্রেডো ডি স্টেফানো চল্লিশ বছর পূরণ করার এক দিন আগে পর্যন্ত ক্লাবের হয়ে পেশাদার ফুটবল খেলেছেন। পেলে আর ম্যারাডোনা খেলেছেন ৩৬ বছর পর্যন্ত। ডাচ কিংবদন্তি ক্রুইফ বুট জোড়া তুলে রাখেন ৩৭ বছর বয়সে। মেসি ৫ বছর খেললে অবসরের সময় তার বয়স হবে ৩৯। মানে পেলে, ম্যারাডোনা, ক্রুয়েফদের পেছনে ফেলে তিনি কেবল ডি স্টেফানোর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকবেন।

আর্জেন্টিনায় জন্ম হলেও ডি স্টেফানো রিয়াল মাদ্রিদেই ক্যারিয়ার গড়েছেন। প্রতিনিধিত্ব করেছেন স্পেনের। রিয়ালের হয়ে ১৮টা শিরোপা জিতেছেন। টানা পাঁচবার জিতেছিলেন ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)। সেখানে ৩৯৬ ম্যাচে করেছিলেন ৩০৮ গোল। শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ডি স্টেফানো এস্পানিওলের হয়ে। দিনটি ছিল ১৯৬৬ সালের ৩ এপ্রিল। রিভারপ্লেটের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলার পর ততদিনে ২১ বছর কেটে গেছে। বয়স ৪০ বছর হতে ঠিক এক দিন বাকি। মেসি কি তাকে ছুঁতে পারবেন?

পেলে ৩৪ বছর পর্যন্ত খেলেছেন সান্তোসের হয়ে। শেষ তিন বছর তিনি খেলেছেন নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে। শেষ মৌসুমে ৪২ ম্যাচে ২৩ গোল করেছিলেন পেলে। শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ১৯৭৭ সালের ১ অক্টোবর। পেলের বয়স তখন ৩৭। পেশাদার ফুটবলে ২২ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন। ৭৫৭ অফিশিয়াল ম্যাচে তার নামের পাশে ছিল ১২৮৩ গোল।

ক্রুইফ ৩৭ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করেন ফেইনুর্দের হয়ে। সেই মৌসুমের সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। আগের দুই মৌসুমে ছিলেন আয়াক্সে। তার আগে খেলেছেন বার্সেলোনায়। লোকে বলে চাইলে আরও দুই মৌসুম অনায়াসে খেলতে পারতেন ফ্লাইং ডাচম্যান। দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল টোটাল ফুটবল। দলকে ইউরো জিতিয়েছেন। যদিও বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি সর্বকালের অন্যতম সেরা হয়েও।

উত্থান-পতনে বিপন্ন ম্যারাডোনার পেশাদার ক্যারিয়ার স্থায়ী হয়েছিল ৩৬ বছর পর্যন্ত। জাতীয় দলের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন ১৯৯৪ সালে। এরপর ড্রাগ টেস্ট পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমেও ডোপিংয়ের কারণে নিষিদ্ধ ছিলেন ফুটবল ঈশ্বর। বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন তিন মৌসুম, এরপর নাপোলি। যেখানে ম্যারাডোনা ক্লাব ক্যারিয়ারের সেরা খেলাটা খেলেছেন। একাই সিরি আ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন নাপোলিকে। আর্জেন্টিনাকে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জেতানোর পর ওটাই তার সেরা সাফল্য। ’৯৪-এ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশে ফিরে বিক্ষিপ্তভাবে ক্লাব ফুটবল খেলেছেন। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর শেষ ম্যাচ খেলেন তিনি। এর ৭ দিন পর ৩৭ বছরে পা রাখেন।

মেসি প্রথম বড় আসরের শিরোপা কোপা জিতেছেন সদ্য। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ। ম্যারাডোনাকে ছাপিয়ে যাওয়ার শেষ সুযোগ। তবে যা করেছেন সেটাও কম কিছু নয়। নেইমারের মতো এই সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার যা দেখে বলেছেন, ‘কোপা ফাইনালে হারটা আমার কাছে চূড়ান্ত হৃদয়বিদারক।... এ জীবনে কখনো পরাজয় মেনে নিতে শিখিনি। তবু হারের পরেও আমার নিজের চোখে খেলতে দেখা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারকে আলিঙ্গন করতে যাই। ফুটবলই চেয়েছিল তোমাকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে।’ ফুটবলের এই চাওয়া মেসিকে কোথায় নেবে জানা নেই। তবে হিসাব বলছে প্রায় ৪০ বছর পেশাদার ফুটবল খেলা ডি স্টেফানোকে পেছনে ফেলতে হলে অনেক দূর যেতে হবে তাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত