দেশে করোনা সংক্রমণ এখনো ঊর্ধ্বমুখী। গত এক সপ্তাহে (১১-১৭ জুলাই) তার আগের সপ্তাহের (৪-১০ জুলাই) মৃত্যু ১৬ শতাংশ ও রোগী শনাক্ত ১৪ শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহে যেখানে দৈনিক মৃত্যু ছিল ১৮২ জন ও রোগী ১০ হাজার ৪৩৭ জন; সেখানে গত সপ্তাহে দৈনিক মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জন ও রোগী ১১ হাজার ৮৭১ জন। এ সময় দৈনিক নমুনা পরীক্ষাও বেড়েছে ২০ শতাংশ।
অবশ্য পাঁচদিন গতকাল শনিবার রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১২ হাজারের নিচে নেমেছে। এ সময় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৮৯ জন। পাঁচদিন আগে গত ১২ জুলাই সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর পরের চারদিন রোগী ১২ হাজারের ওপরে ছিল। এ নিয়ে দেশে মোট রোগী শনাক্ত হলো ১০ লাখ ৯২ হাজার ৪১১ জন।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় তার আগের চেয়ে মৃত্যু ১৭ জন বেড়েছে। এ সময় মারা গেছেন ২০৪ জন। এ নিয়ে করোনায় মোট ১৭ হাজার ৬৬৯ জন মারা গেলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষা প্রায় ১৩ হাজার কমেছে। গতকাল নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৯ হাজার ২১৪ জনের। তার আগের দিন শুক্রবার পরীক্ষা হয়েছিল ৪১ হাজার ৯৪৭টি নমুনা। তবে পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার বেড়ে আবার ২৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হার ছিল ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। তার আগে গত শুক্রবার হার ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গত বৃহস্পতিবার ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৭২ লাখ ১৫ হাজার ৫৮১টি নমুনা।
বেশি মৃত্যু ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামে : গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২০৪ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৮২ জন। এরপর খুলনা বিভাগে ৪৯ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি ঢাকা বিভাগের মোট মৃত্যুর ৩২ জনই ঢাকা জেলার। জেলা হিসেবে মৃত্যুতে এটিই সর্বোচ্চ। এরপর খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় ১০ জন করে, খুলনায় ৯ জন, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় ৭ জন করে, মেহেরপুরে তিনজন, নড়াইলে দুজন ও বাগেরহাটে একজন মারা গেছেন। সাতক্ষীরা ও মাগুরায় গতকাল করোনায় কেউ মারা যাননি।
চট্টগ্রাম বিভাগে মারা যাওয়া ৩২ জনের মধ্যে ১৫ জনই কুমিল্লা জেলার। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় পাঁচজন এবং কক্সবাজার, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনজন করে, চাঁদপুরে দুজন ও লক্ষ্মীপুরে একজন মারা গেছেন। এ সময় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও ফেনীতে কেউ মারা যাননি।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ৫ জন, রংপুর বিভাগে ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়।
অর্ধেক রোগী ঢাকায় : গত এক দিনে কেবল ঢাকা বিভাগেই ৪ হাজার ৪৮০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের ৫০ শতাংশের বেশি। চট্টগ্রাম বিভাগে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ জন।
ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৩ হাজার ২৭১ জন, ফরিদপুরে ৩০৫ জন, গাজীপুরে ১৩৮ জন, মুন্সীগঞ্জে ৯৭ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০৯ জন, নরসিংদীতে ৬৪ জন, রাজবাড়ীতে ১৩৮ জন এবং টাঙ্গাইল জেলায় ৯২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬০০ জন, কক্সবাজারে ২৪১, ফেনীতে ৮৯ জন, নোয়াখালীতে ১৫৭ জন, চাঁদপুরে ১১৯ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭৮ জন এবং কুমিল্লায় ৪৭৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
রাজশাহী বিভাগের মধ্যে রাজশাহী জেলায় ১৬৩ জন, পাবনায় ১৫৫ জন, সিরাজগঞ্জে ৬২ জন এবং বগুড়ায় ১৫৬ জন নতুন রোগী মিলেছে।
খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গায় ৪৪ জন, যশোরে ১০৮ জন, খুলনায় ২০১ জন এবং কুষ্টিয়ায় ৮৮ জনের মধ্যে ধরা পড়েছে সংক্রমণ।
এছাড়া অন্য বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে বরিশালে ১০৪ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, সিলেটে ২০৩ জন, রংপুরে ১০৮ জন এবং দিনাজপুরে ১৭১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত এক দিনে।
মৃতদের ৩১ শতাংশই ষাটোর্ধ্ব : গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২০৪ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স ছিল ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে। ১৫ জনের বয়স ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে, ৩৫ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৫১ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৫৮ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃত ২০৪ জনের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং ৭৯ জন ছিলেন নারী।
