প্রতারণা-জালিয়াতি

গ্রেপ্তার হতে পারেন নুসরাত ও তার স্বামী

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ০৫:৫০ এএম

বিভিন্ন প্রতারণা, জালিয়াতি, ভুল তথ্য দিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন নুসরাত জাহান ও তার স্বামী মিজানুর রহমান। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা খুব শিগগিরই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাচ্ছে এবং এ জিজ্ঞাসাবাদে যদি তাদের বক্তব্য সন্তোষজনক না হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনগত ব্যবস্থায় তারা গ্রেপ্তার হতে পারেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মারা যান মোসারাত জাহান মুনিয়া। মৃত্যুর পরপরই তার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া গুলশান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেন। এ মামলায় তিনি যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন পরবর্তীকালে দেখা গেছে যে, এসব একাধিক অভিযোগ মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নুসরাতের যে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা, সেই আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় পাঁচটি মোটাদাগে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সূত্র বলছে, মুনিয়ার মৃত্যুর পর তার মরদেহ নেওয়া এবং থানায় মামলা করা এ ক্ষেত্রে নুসরাত এবং তার স্বামী প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। কারণ তারা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন অথচ এটি আত্মহত্যা কি না সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। ময়নাতদন্তের আগেই একরকম জোর করে এ মামলাটি করা হয়েছে। এটি প্রতারণামূলক।

সূত্র আরও বলছে, মুনিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে নুসরাত ভুল তথ্য দিয়েছেন এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুনিয়ার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল এবং একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে নুসরাত বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু মুনিয়ার মৃত্যুর পর নুসরাত এমন একটি আবহ তৈরি করেন যে, একজন ব্যক্তির সঙ্গেই সম্পর্ক ছিল। এছাড়াও মুনিয়ার যেসব ডায়েরি, মোবাইলে মেসেজ আদান-প্রদানের যে আলামতগুলো পুলিশকে নুসরাত এবং তার স্বামী দিয়েছিলেন তা খন্ডিত ও ভুল।

অভিযোগ উঠেছে, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মামলায় নুসরাত প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে মুনিয়ার সঙ্গে অন্য ব্যক্তির কথোপকথনকে তিনি টেম্পারড করে বা পরিবর্তন করে একজন বিশেষ ব্যক্তির নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অডিও এডিটিং বা সম্পাদনা করা হয়েছে এমন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আরও অভিযোগ, মুনিয়ার মৃত্যুর পর এ মামলা করতে গিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন নুসরাত এবং এ মামলা তদন্তে তার জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। মুনিয়াকে যে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল সেই বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল নুসরাত এবং তার স্বামীর নামে। অথচ এ বাড়িতে তারা থাকতেন না। এটি বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী একধরনের জালিয়াতি। আর এরকম জালিয়াতির কারণে এ বাড়িতে সংঘটিত যেকোনো ঘটনার দায়-দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। এরকম বহু জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্রগুলো বলছে, সমস্ত কারণেই এখন নুসরাত ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে এবং এ জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার হয়ে যেতে পারেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত