কোয়ারেন্টাইন জটিলতায় মুশফিক নেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১০:৫৭ পিএম

যে ভয় ছিল সেটাই হলো, নির্ধারিত সময়ে কোয়ারেন্টাইন শুরু করতে না পারায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ঘরোয়া সিরিজে খেলা হচ্ছে না মুশফিকুর রহিমের। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) কাছে মুশফিকের জন্য কোয়ারেন্টাইন শর্ত শিথিলের আবেদন করে বিসিবি। কিন্তু সিএ’র মন গলেনি। তারা ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা ছাড়া কোনো ক্রিকেটারকে এ সিরিজে দেখতে নারাজ। তাই সিরিজটি ঘরে বসেই দেখতে হবে মুশফিককে। 

প্রথমে সিরিজটির কোয়ারেন্টাইন শুরুর সময় ছিল ২২ জুলাই। পরে তা এগিয়ে ২০ জুলাই করা হয়। কিন্তু কোনো দলেরই নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় উপস্থিত হওয়া অসম্ভব। কারণ, বাংলাদেশ খেলছে জিম্বাবুয়েতে আর অস্ট্রেলিয়া উইন্ডিজে। তাই ঠিক হয় নিজ নিজ সিরিজ থেকে ফিরে সরাসরি বায়ো-বাবলে ঢুকে গেলে আলাদা কোয়ারেন্টাইন করতে হবে না কোনো দলকে। কিন্তু মুশফিকুর রহিম নির্ধারিত সময়ে দলের সঙ্গে নেই। বাবা-মা অসুস্থ হওয়ায় টেস্ট ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরে আসেন। এরপর ২২ তারিখে রিপোর্ট করেও কোনো লাভ হলো না তার। কারণ কোয়ারেন্টাইনের দু’দিন গত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলবেন বলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেওয়া ছুটিও বাতিল করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ সিরিজটি থেকে বাইরেই থাকতে হচ্ছে মুশফিককে। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান আকরাম খান জানান, ‘বাবা-মায়ের অসুস্থতার জন্য মুশফিককে দেশে ফিরে আসতে হয়, এমন পরিস্থিতিতে তো কিছু করারই নেই। মুশফিক খুব করে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলতে চেয়েছিল, এজন্য সে ছুটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। কিন্তু পরিস্থিতি সব কঠিন করে দেয়। সিএ’র কাছে মুশফিকের ব্যাপারে কোয়ারেন্টাইনের সময়ে ছাড় দেওয়ার আবেদন করেছিলাম কিন্তু তারা ছাড় দিতে নারাজ।’

মুশফিকের মতো অস্ট্রেলিয়া সিরিজ মিস করছেন তামিম ইকবালও। হাঁটুর ইনজুরির কারণে বিশ্রামের জন্য জিম্বাবুয়ে থেকে ওয়ানডে খেলেই দেশে ফিরেছেন তামিম। ওই সময়ই বিসিবি জানিয়েছেন, ৬-৮ সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে এই ওপেনারকে।

সিরিজ যথাসময়েই হচ্ছে

২ জুলাই থেকে নয়, ৩ জুলাই থেকে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। তাই বাংলাদেশে নিজেদের চতুর্থ সফরে মাত্র ১১ দিনের মধ্যে ৫ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। উইন্ডিজ থেকে চার্টার্ড বিমানে করে ২৯ জুলাই ঢাকা আসবেন অ্যারন ফিঞ্চরা। শুরুর তিন দিনের রুম কোয়ারেন্টাইন। ১ আগস্ট থেকে শুরু ব্যাট-বলের অনুশীলন। খুব ব্যস্ত সূচিই বটে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ২ আগস্ট কিন্তু তা বদলে ৩ আগস্ট প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে। এর পর দিনই দ্বিতীয় ম্যাচ। ৫ আগস্ট বিরতির পর ৬ ও ৭ আগস্ট তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচ। পরে এক দিনের বিরতির পর ৯ আগস্ট শেষ ম্যাচ হবে।

সিরিজের সব ম্যাচই দিবারাত্রির। তবে শুরুর সময়টা এখনো ঠিক হয়নি। অবশ্য সিরিজটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে উইন্ডিজে স্বাগতিক দলের এক সাপোর্ট স্টাফ করোনা পজিটিভ হওয়ায়। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে ওই খবর আসার পর ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। এরপর সিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি হুমকিতে পড়ে গেল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সফরও। কিন্তু গতকাল বিসিবি সিইও জানিয়েছেন, আসন্ন সিরিজ মাঠে গড়ানোর ব্যাপারে কোনো আশঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সব ঠিক আছে।

সবশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে আসে অস্ট্রেলিয়া। সেবার দুই টেস্টের সিরিজ ড্র হয় ১-১-এ। এর আগে ২০১১ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে খেলতে আসে। ওই সিরিজ ৩-০তে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে প্রথমবার ২০০৬-এ দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে অজিরা।

সিরিজটি খুব কঠিন বায়ো-বাবল প্রটোকল মেনে হবে। ইতিমধ্যেই সিরিজের কলাকুশলীরা ঢাকায় কোয়ারেন্টাইন শুরু করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত