নবম-দশম শ্রেণি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৫৫ পিএম

তৃতীয় অধ্যায় : সৌরজগৎ ও ভূ-মণ্ডল

সৃজনশীল

১.

ক. পৃথিবীর সর্বত্র দিবা-রাত্রি সমান হয় কোন তারিখে?

খ. ভরাকটাল ও মরাকটাল কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর।

গ. বায়ু মণ্ডলের ‘অ’ স্তরটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে বায়ু ম-লের ‘ঈ’ স্তরের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

ক. ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিবা-রাত্রি সমান হয়।

খ. অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ এবং অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এই দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়েরমিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরাকটাল বলে। সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোনে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয় কিন্তু সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এরূপ জোয়াকে মরাকটাল বলে।

গ. বায়ু মণ্ডলের ‘অ’ স্তরটি হলো ট্রপোমণ্ডল। ট্রপোমণ্ডল ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর বা বায়ু মণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। বায়ু মণ্ডলের স্তরগুলো একের পর এক সজ্জিত। স্তরগুলো ওপরের দিকে হালকা হয়ে গেছে। ওপরের স্তর নিচের স্তরে চাপ দিচ্ছে বলে নিচের স্তর অনেক ঘন। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে দেখতে পাই। বায়ু মণ্ডলের যে তিনটি স্তর রয়েছে তার মধ্যে  সর্বনিম্ন স্তর হলো ট্রপোমণ্ডল। ট্রপোমণ্ডল নিরক্ষরেখার কাছে ১৭.৭১ কিলোমিটার, ৪০ ডিগ্রি অক্ষাংশে ১১.২৭ কিলোমিটার এবং মেরুতে ৬.৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত

বিস্তৃত। এর গড় গভীরতা প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এটি মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্তর। কেননা আর্দ্রতা, কুয়াশা, মেঘ, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি এ স্তরে লক্ষ করা যায়। উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এ স্তরে  গতিবেগ বেড়ে যায়, বায়ু ওপরে-নিচে ওঠা-নামা করে। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশিরভাগ প্রক্রিয়া বায়ু ম-লের এ স্তরে ঘটে থাকে।

ঘ. বায়ু মণ্ডলের ‘ঈ’ স্তরটি হলো ওজনস্তর। বায়ু মণ্ডলের ওপরের স্তর নিচের স্তরে চাপ দিচ্ছে বলে নিচের স্তর অনেক ঘন হয় এবং ওপরের স্তর পাতলা হয়। উদ্দীপকের ‘ঈ’ স্তরটি ট্রপোমণ্ডলের ওপরে অবস্থিত এবং ট্রপোমণ্ডল অপেক্ষা পাতলা হওয়ার কারণে আমরা বলতে পারি এটা ওজন স্তরকেই নির্দেশ করে। পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে বায়ুমণ্ডলের ওজনস্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর গভীরতা প্রায় ১২ থেকে ১৬ কিলোমিটার। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করায় এর তাপমাত্রা প্রায় ৭৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ স্তরটিই পৃথিবীকে প্রাণিজগতের বাসোপযোগী করেছে। পৃথিবী সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায়। সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী চির অন্ধকারে থাকত। পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্ধন থাকত না এবং জীবজগৎ, উদ্ভিদ ও প্রাণী কিছুই বাঁচত না। আবার সূর্যের অতি বেগুনিরশ্মি  উদ্ভীদের অস্তিত্বকে বাধাগ্রস্ত করে। সূর্যের অতি বেগুনিরশ্মি পৃথিবীর বুকে পতিত হলে প্রাণিজগতের অস্তিত্ব থাকত না। ওজনস্তর সূযের অতি বেগুনিরশ্মি শোষণ করে প্রাণিজগতের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে। সুতরাং, পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করতে ওজনস্তরের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত