এতদিন (১৮৩ দিন) পরিবহন বন্ধ রাখায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবহন শ্রমিক ও গাড়ির মালিকরা, আর এর মধ্যে (মরার উপর খারার গাঁ) এমনিতে আয়-রোজগার নেই তার উপর বর্ধিত আয়কর ধরা হয়েছে পরিবহন ও গাড়ির মালিকদের উপর। তাই সড়ক পরিবহন ও গাড়ির মালিকদের পুরনো আয়কর রেখে বর্ধিত আয়কর বাদ দিতে রবিবার দুপুরে বাস মালিক সমিতির হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করেছে মাদারীপুর জেলা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি ও জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২০ সালের মার্চ হইতে অদ্য পর্যন্ত সরকারের নির্দেশ মোতাবেক করোনা মাহামারীর কারণে ১৮৩ দিন গাড়ি চলাচল বন্ধ আছে। এছাড়া ৬০% বর্ধিত ভাড়া নিয়ে অর্ধেক যাত্রী বহন করে কোনমতে পরিবহন চালু রাখতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এই বছর এমনিতেই চার মাসের গাড়ির কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। এরপর রাস্তার চাঁদা, ড্রাইভার, সুপারভাইজার, হেলপারের সম্পূর্ণ বেতনের টাকা পরিশোধ করতে হয়। এঅবস্থায় পরিবহন ও গাড়ির মালিকদের সাথে কোনা আলাপ না করে আগের আয়করের দ্বিগুণ আয়কর ধার্য করা হয়েছে।
যাদের ১ জুলাই ১০ বছর অতিক্রম করেনি যেখানে ৯ হাজার টাকা সেখানে ১৬ হাজার ৫শত টাকা এবং যারা ১০ বছর অতিক্রম করেছে তাদের ৪ হাজার ৫শত টাকার পরিবর্তে ২১ হাজার টাকাসহ ২৫ হাজার ৫শত টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
এমনিতেই পরিবহন ও গাড়ির মালিকরা বিপর্যয়ের মধ্যে তারপর আবার বর্ধিত আয়কর তাই তাদের দাবি তাদের পুরনো আয়কর রেখে আয়কর পরিশোধ করার সুযোগ যেন করে দেয়া হয়। এ সময় জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতিসহ মাদারীপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান বলেন, গত বছর থেকে ১৮৩ দিন আমাদের পরিবহন বন্ধ তার উপর আবার বর্ধিত আয়কর এটা এমন যেন, মরার উপর খারা গাঁ। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি ও দাবি জানাচ্ছি আমাদের বর্ধিত আয়কর বাদ দিয়ে পুরনো যে আয়কর রয়েছে সেটা পরিশোধ করার সুযোগ করে দেয়া হোক।
মাদারীপুর সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার কামরুল হোসেন তুষু বলেন, আমাদের সড়ক পরিবহন ও গাড়ির মালিকদের এই বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে বর্ধিত আয়কর থেকে মুক্তি দিয়ে আগের আয়কর দেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
