মাইক পাওয়েলের ভেন্যুতে গ্রিক ইতিহাস

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১১:৩২ পিএম

লং জাম্পের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে টোকিওর ন্যাশনাল স্টেডিয়াম। ৩০ বছর আগে এই স্টেডিয়ামেই যুক্তরাষ্ট্রের মাইক পাওয়েল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের লং জাম্পে ৮.৯৫ মিটার পেরিয়ে পূর্বসূরি বব বিমনের ১৯৮৬’র অলিম্পিকে গড়া ৮.৯০ মিটারের রেকর্ড ভেঙে গড়েন নতুন বিশ্বরেকর্ড, যা এখনো টিকে আছে।

সেই স্টেডিয়ামেই গতকাল লংজাম্পে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ হাতছাড়া হলো আরও একবার। ১৯৮০-র মস্কো অলিম্পিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, ২০০০-এ কিউবা, ২০০৮-এ পানামা, ২০১২-তে ব্রিটেনের জাম্পারদের কাছে শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়েছিল আমেরিকানরা। বব বিমন, মাইক পাওয়েল, কার্ল লুইসদের ইভেন্টটি এবার জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গ্রিসের মিলতিয়াদিস তেনতোগলু।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেট থাকলেও ফেভারিট অবশ্য তিনি ছিলেন না এবার। ছিলেন কিউবার হুয়ান মিগেল এচেভারিয়া। সেমিফাইনালে ৮.৫০ মিটার লাফিয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম। ওই রাউন্ডে তার চেয়ে অনেক পেছনে থাকা (৮.২২ মিটার) তেনতোগলু গতকালের ফাইনালে চমকে দিয়েছেন। কিছু ভাগ্যের ছোঁয়া আর সর্বোচ্চ চেষ্টায় এচেভারিয়ার হাত থেকে ছিনিয়ে নিলেন অলিম্পিক স্বর্ণ। ফাইনালে সেটের শেষ লাফে ৮.৪১ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন তিনি। তার আগের লাফে ৮.১৫ মিটার দূরত্ব ছাড়িয়ে এগিয়ে থাকেন এচেভারিয়ার চেয়ে। কিউবার প্রতিযোগী ইনজুরির কারণে শেষ লাফটি নিতে পারেননি। তাতেই লং জাম্পে গ্রিসের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী হয়ে যান তেনতোগলু। ‘কাউন্টব্যাক’ নিয়মে জেতেন তিনি। এই নিয়মে দুই প্রতিযোগীর শেষ লাফের দূরত্ব সমান হলে জয়-পরাজয়ের জন্য তার আগের সেরা স্কোরকে বিবেচনা করা হয়। তেনতোগলু তার শেষ লাফে পার করেন ৮.৪১ মিটার, এচেভারিয়া তার তৃতীয় লাফে পার করেন ৮.৪১ মিটার। শেষ লাফটি আর নিতে পারেননি। তাই দুজনের আগের সেরা স্কোর গণনা করা হয়। তাতে তেনতোগলু নিজের তৃতীয় লাফে ৮.১৫ অতিক্রম করে স্বর্ণ জেতেন। ৮.৪১ এর আগে এচেভারিয়ার সেরা স্কোর ছিল প্রথম লাফে ৮.০৯ মিটার।

২০১৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জিতেছিলেন তেনতোগলু। কিন্তু গত দু’বছরে ফর্ম পড়ে যায় তার। গত মে-তে ঘরোয়া আসরে ৮.৬০ মিটার লাফ দিয়েছিলেন তবুও টোকিওতে জেতার মতো স্কোর তুলতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ফাইনালেই বাজিমাত করে বলেন, ‘কী অবিশ্বাস্য আসর, কী অবিশ্বাস্য লাফ, অবশ্যই আমার শেষ লাফটার কথা বলছি। ওই দৌড়ের শুরুটা ভালো করতে পারিনি কিন্তু শেষটা আমি দারুণ করেছি। স্বর্ণ জেতার মতো স্কোর করেছি। আমি সবসময়ই শেষে কিছু দেখানোর মতো রসদ রাখি। এটাই আমার সেই রসদ ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত