‘ইকবাল মাহমুদের শেষ পাঁচ মাসে নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি’

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ০২:১১ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের শেষ পাঁচ মাসে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিমূলক, মনগড়া ও বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে উল্লেখ করেছে দুদক। ইকবাল মাহমুদ অবসরে যাওয়ার দিন থেকে শেষ পাঁচ মাসে দুদকের অনুসন্ধান থেকে কতজনকে দায়মুক্তি কিংবা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে গত ১৬ মার্চ আদেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে সে কারণ উল্লেখ করে অব্যাহতিপ্রাপ্তদের নাম পরিচয়ের তালিকা দুদককে দাখিল করতে বলে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ১৪ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে দুদকে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’, ‘বহু রাঘববোয়ালকে  ছেড়ে দেন ইকবাল মাহমুদ’ শীর্ষক প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনা হলে স্বতঃপ্রণোদিত এ আদেশ আসে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন পৃষ্ঠার একটি ব্যাখ্যা প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টে দাখিলের জন্য প্রস্তুত করেছে দুদক। সংস্থার প্রধান আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে জানান নিয়মিত আদালত চালু হলে প্রতিবেদনটি হলফনামা আকারে হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।

দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদের সই করা ওই  প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদে যে ৫ মাস সময়কালের উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময়ে কমিশনের কার্যক্রম অন্য সকল সময়ের মতোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক যথাযথ নিয়ম, আইন ও বিধিবিধান অনুসারে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে আইন বা বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। সিদ্ধান্তগুলো আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে এবং সকল সিদ্ধান্ত আইনগতভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ‘বিদায়ের আগে ‘দুর্নীতিবাজ বহু রাঘববোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান’ এ কথাটি সত্য নয়। কারণ, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কোনো কমিশনার এককভাবে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি/ছেড়ে দিতে পারেন না।’ এছাড়া ইকবাল মাহমুদ বিদায় নেওয়ার আগে স্বীয় কৃতকর্মের অনেক দালিলিক প্রমাণই যথাসম্ভব নিশ্চিহ্ন করে যান বলে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে এর কোনো সত্যতা কিংবা ভিত্তি নেই বলে জানায় দুদক। প্রতিবেদনে দুদক তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে, কমিশন মূলত তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত। তিনজন কমিশনারের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। কমিশন তার সিদ্ধান্ত কমিশনের সভায় অথবা নথির মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকে। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। তাই ওই পাঁচ মাসে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যানের কর্মকান্ডে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘দুদকের পক্ষে প্রতিবেদনের একটি সার-সংক্ষেপ আমার কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি হলফনামা আকারে হাইকোর্টে দাখিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের মূল বক্তব্য হলো, ইকবাল মাহমুদের একার পক্ষে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া সম্ভব না। আইনেও তাকে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আইনে আছে কমিশনের সিদ্ধান্ত হবে সর্বসম্মতিক্রমে। ইকবাল মাহমুদের সফলতাকে খাটো করার জন্য একটা মহল এই কাজটি করেছে।’

দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৬ সালের ১০ মার্চ যোগ দেন ইকবাল মাহমুদ। প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ৯ মার্চ তিনি অবসরে যান। একটি দৈনিকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,  বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘববোয়ালকে ছেড়ে দেন সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এই দায়মুক্তি আড়াল করতে কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। সব মিলিয়ে শেষ ৫ মাসে তিনি ২ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন। এতে আরও বলা হয়, ইকবাল মাহমুদ বিদায় নেওয়ার আগে স্বীয় কৃতকর্মের অনেক দালিলিক প্রমাণই যথাসম্ভব নিশ্চিহ্ন করে যান। ২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত