গণহত্যা চালাচ্ছে জান্তা

মিয়ানমারে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চান দূত

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ০১:৪৯ এএম

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘকে সতর্ক করেছেন বিশ্ব সংস্থাটিতে নিয়োজিত দেশটির রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে দেওয়া এক চিঠিতে কিয়াও এ আহ্বান জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এ অভ্যুত্থান প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার পুনর্বহালের দাবি জানালে জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুনকে বরখাস্ত করে জান্তা সরকার। তবে পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান কিয়াও। জাতিসংঘ এখনো তাকে মিয়ানমারের বৈধ রাষ্ট্রদূত হিসেবে গণ্য করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে দেওয়া চিঠিতে কিয়াও বলেন, ‘গত জুলাইয়ে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাগাইং রাজ্যের কানি শহরে ৪০ ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। সেনারা কানি শহরের একটি গ্রামে গত ৯ ও ১০ জুলাই নির্যাতনের পর ১৬ ব্যক্তিকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর সেখানকার প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা পালিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৬ জুলাই কানিতে স্থানীয় যোদ্ধা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পরের দিনগুলোতে সেখানে আরও ১৩ জনের লাশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত ২৮ জুলাই কানির অপর একটি গ্রামে শিশুসহ ১১ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। পরে গ্রামটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।’

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তার ওপর আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিতে ফের আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত কিয়াও। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মিয়ানমারে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীকে এ ধরনের নৃশংসতা অব্যাহত রাখতে দিতে পারি না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।’

স্বাধীনভাবে গণহত্যা-সংক্রান্ত খবর যাচাই করতে পারেনি এএফপি। কারণ, এলাকাটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তবে মিয়ানমারে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত