চিড়িয়াখানায় প্রবেশ ফি ২০ টাকা। এই ফি না দিয়ে কেউ চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করলে তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল ‘বাংলাদেশ চিড়িয়াখানা আইন, ২০২১’-এর খসড়ায়। মাত্র ২০ টাকার জন্য এত বেশি দন্ড এবং জরিমানায় সম্মতি দেয়নি মন্ত্রিসভা। আলাপ-আলোচনার পর দুই মাসের জেল ও ১ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে আইনটির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ২৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরি আইনের একটি ধারা সংশোধনীর প্রস্তাব করলেও তাতে সম্মতি দেয়নি মন্ত্রিসভা। সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরে যাওয়ার পর গুরুতর কোনো অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত হলে তার অবসর সুবিধা আংশিক বা সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা আছে সরকারের হাতে। বিদ্যমান আইনের এ সংক্রান্ত ধারাটি বাতিল করে আইনে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, মাত্র ২০ টাকা প্রবেশ ফির জন্য জরিমানার পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে গেছে বলে মনে করে মন্ত্রিসভা। প্রবেশ ফি কম এ বিবেচনায় দুই মাসের জেল ও ১ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে।
এদিন ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন, ২০২১’-এর খসড়াতেও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকায় অধ্যাদেশের বদলে এ আইন করা হচ্ছে। জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদন্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দন্ড দেওয়া যাবে। নিদর্শন চুরি, পাচার বা ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদন্ড বা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে খসড়ায়। নিদর্শনের ওপর খোদাই করলে এক বছরের কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগের অধ্যাদেশকে বদলে এ আইন করা হচ্ছে। কোনো শিক্ষক মারা গেলে তার নাবালক, প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানরা এ ট্রাস্ট থেকে সহায়তা পাবেন।
প্রতি বছর ৬ অক্টোবরকে ‘জাতীয় জন্ম নিবন্ধন দিবস’ পালন করা হয়। কিন্তু জন্মের মতো মৃত্যুর তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে হাইলাইট করার জন্য ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’ ঘোষণা করছে সরকার। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষমাত্রা অর্জন করতে হবে। ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু আইন অনুযায়ী শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং ইউনিয়ন পরিষদ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করে।
