ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক

চীন থেকে আরও ৬ কোটি টিকা কেনার অনুমোদন

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ০৪:৫৪ এএম

আগামী নভেম্বর নাগাদ চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের তৈরি আরও ৬ কোটি ডোজ টিকা আনবে সরকার। গতকাল বুধবার এসব টিকা কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি ২৭তম সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিনোফার্ম থেকে ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছি। হিসাব করে দেখেছি দেশের ১৩ কোটি ৮২ লাখ জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিনেটেড করতে হবে। তার জন্য ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ভ্যাকসিন কেনা প্রয়োজন। এর মধ্যে ২ কোটি ৫৫ লাখ আমাদের হাতে আছে। বাকিটা সংগ্রহ করতে হবে। আজ আমরা ৬ কোটি ডোজ কেনার জন্য অনুমোদন দিলাম। বাকিটা পর্যায়ক্রমে আনব।’

ভ্যাকসিনের দাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রাইসটি আমাদের কাছে নেই। কারণ বাকিগুলো এখনো নেগোসিয়েশন চলছে। প্রাইস ফাইনালাইজড হলে আমরা বলতে পারব। প্রাইস এখনো ফাইনালাইজড হয়নি, সে জন্য আমরা বলতে পারছি না।’

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ভ্যাকসিনের বিষয়ে চীনের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার একটি এগ্রিমেন্ট আছে। সেজন্য দামটি প্রকাশ করা যাবে না। আমরা আশা করি ৬০ মিলিয়ন সিনোফার্মের ভ্যাকসিন পাব। আশা করা যাচ্ছে আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ ভ্যাকসিন পাব।

জানা গেছে, ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্র্তৃক চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে ৬০ মিলিয়ন ডোজ টিকা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) চুক্তিপত্রে উল্লিখিত একক মূল্যে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে সরকার চীনের কাছ থেকে সিনোফার্মের দেড় কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয় করে। তার মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ইতিমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

এর বাইরে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির আওতায় দেশে আরও ৩৪ লাখ ডোজ সিনোফার্মের ভ্যাকসিন এসেছে। চীন থেকে উপহার হিসেবে বাংলাদেশ পেয়েছে আরও ১১ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন।

উল্লেখ্য, এর আগে সিনোফার্ম ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের প্রস্তাব সংবলিত একটি খসড়া চুক্তিপত্র পাঠায়। ওই প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্র্তৃক মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং চুক্তিপত্রে উল্লিখিত একক দরে ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন ক্রয় চুক্তির শর্তাবলি এবং আগে স্বাক্ষরিত ক্রয় চুক্তির শর্তাবলি হুবহু একই আছে। ভ্যাকসিনের পরিমাণ ছাড়া দুটি চুক্তিপত্রের মধ্যে আর কোনো ভিন্নতা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চীন থেকে এলো আরও ১৭ লাখ টিকা : চীন থেকে এলো আরও ১৭ লাখ ৭০ হাজার করোনার টিকা। টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের আওতায় এ নিয়ে দুদিনে ৩৪ লাখ ৭০ হাজার সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশকে উপহার দিল চীন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে দ্বিতীয় দফার টিকা বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের বিশেষ কার্গো বিমানের একটি ফ্লাইটে এসব টিকা দেশে পৌঁছায়।

এর আগে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় বিমানটি পেইজিং বিমানবন্দর ত্যাগ করে। দুবাই হয়ে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়। কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে টিকা দেওয়ার বাইরেও উপহার হিসেবে শুরুতে ৫ লাখ ও কিছুদিন পর আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা দেয় চীন।

এ নিয়ে সিনোফার্মের টিকা দেশে এসেছে ৯৮ লাখ। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে মোট ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৩ ডোজ এবং মজুদ আছে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৮১৭ ডোজ।

পাশাপাশি দেশটি থেকে সিনোফার্মের ৭৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৭ কোটি ডোজ কিনছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, এর মধ্যে দেড় কোটি ডোজের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।

চীন থেকে প্রথম দফায় গত ৩ জুলাই বাণিজ্যিকভাবে কেনা ২০ লাখ টিকা আসে। আর দ্বিতীয় দফায় ১৭ জুলাই আরও ২০ লাখ টিকা আসে। ৩০ জুলাই আসে ৩০ লাখ ডোজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত