গোপালগঞ্জে ৫ মিনিটে দুবার টিকা দেওয়া হলো ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে!

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ০৯:১৩ পিএম

গোপালগঞ্জে শেখ সায়রা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার দুই ডোজ টিকা পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দেওয়া হয়েছে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধাকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা সদরের শেখ সায়রা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

টিকা নেয়া ওই বৃদ্ধার নাম মমতাজ বেগম (৬৫) তিনি মৃত. নওয়াব আলীর চৌধুরীর স্ত্রী এবং পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেদগ্রাম ফায়ার সার্ভিস রোডের  বাসিন্দা।

জানা যায়, বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ শেখ সায়রা খাতুন মেডিকেল কলেজ টিকাকেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়ান। পৌনে ১২টায় টিকার কার্ড নিয়ে তিনি নির্ধারিত কক্ষে টিকা নিতে যান। এ সময় কর্তব্যরত নার্স তাকে টিকা দেন। এরপর কিছুক্ষণ পরই তাকে আবার টিকা দেওয়া হয়।

মমতাজ বেগম বলেন, আমি টিকাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে টিকার কার্ড জমা দিই, পরে মহিলা কক্ষে প্রবেশ করি। আমি একটি বেঞ্চে বসি। আমার আগে আরো চারজন মহিলা ছিল তাদের টিকা দেওয়ার পর একজন নার্স এসে আমাকে টিকা দেয়। টিকা দেওয়ার পর একটু মাথা ঘুরছিল ব‌লে আমি ওই কক্ষের বেঞ্চে টিকার স্থান চেপে ধরে বসে থাকি। ২-৩ মিনিট পর অন্য একজন নার্স এসে আমাকে বলে তাড়াতাড়ি হাত সরান, এই বলে আরো একটা টিকা দিল।

তিনি বলেন, আমি তাদের বলেছিলাম, আমি তো একটু আগে একবার টিকা নিয়েছি, এবার কি দুইটা নিতে হবে? আমার কথা না শুনেই দিয়ে দিল। এরপর আমি বারবার বলেছিলাম আমাকে আবার দেওয়া হলো কেন? এবার কি দুইটা নিতে হয়। এরপর পর একজন নার্স বলে আপনাকে কি আজ টিকা দিয়েছিলাম নাকি?

তিনি আরো বলেন, ‘আমি তো নিয়ম জানি না। কাগজ নিয়ে টিকাকেন্দ্রে আসছি। নার্স তাড়াহুড়া করে দিয়ে দিলেন। আমি ব্যথার জন্য হাত দিয়ে চেপে ধরে বলছিলাম, এই বার কি (টিকা) দুটো করে নিতে হবে, তারপরও দিয়ে দিল।

তবে এ বিষয়ে কর্তব্যরত নার্সের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা.  সুজাত আহমেদ বলেন, টিকা দেওয়ার বিষয়টা আমি শুনেছি। আমি গোপালগঞ্জ সদরে ছিলাম না  মুকসুদপুর উপজেলায় গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসক কর্মকর্তা সাকিবুর রহমান বলতে পরবেন।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসক কর্মকর্তা সাকিবুর রহমান বলেন, আমি জানার পর টিকা গ্রহণকারীকে ডেকে ছিলাম।  আমার কাছে মনে হয়েছে, তাকে দুইটি দেওয়া হয়েছে।  আমি ওই নার্সকে ডেকে তার কাছে জানলাম। নার্স বলল টিকা গ্রহণকারী প্রথম টিকা নেয়ার পর হাত বের করে বেঞ্চে বসেছিল তাই নার্স মনে করছিলেন তিনি টিকা নেবেন। নার্স দ্বিতীয়বার দিতে গেলে বৃদ্ধা মহিলা যখন বলেন আমি একটা নিয়েছি তখন আর দেয়নি। শুধু সুইয়ের খোঁচা লেগেছে। তারপরও আমি তাকে আমার মোবাইল নম্বর দিয়েছি কোনো সমস্যা মনে হলে আমাকে কল করার জন্য। আমরা টিকা গ্রহণকারী বৃদ্ধার খোঁজখবর রাখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত