৩ লক্ষ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেবে চসিক

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় ৩ লাখেরও বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর লালদিঘীর পাড়ে চসিক পাবলিক লাইব্রেরির কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। 

মেয়র বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ— যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এর ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি জানান, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চসিক এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের কর্মসূচিতে ৭টি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন পরিচালিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। বিশেষ করে বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা প্রদান করা হবে।

মেয়র আরও জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, মাইকিং এবং গণসচেতনতা কার্যক্রম।

তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচি সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম ও পেশাজীবীসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় চসিক জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভিসহ বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা করছে।

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত