জনপ্রতি এক-দেড় লাখ টাকায় ২ শতাধিক তরুণীকে বিক্রি কালা-নাগিন চক্রের

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ০৩:৪৯ পিএম

জনপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকায় ভারতে দুই শতাধিক তরুণীকে বিক্রি করেছে নারী পাচারকারী চক্র কালা-নাগিন সিন্ডিকেট।

এই চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার তিনজনকে নিয়ে সোমবার দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল গত মধ্যরাত হতে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর পল্লবী এবং মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী পাচারকারী কাল্লু-সোহাগ ওরফে কাল্লু-নাগিন সোহাগ ওরফে মামা-ভাগিনা ওরফে কালা-নাগিন চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

তারা হলো- মূলহোতা রাজধানীর পল্লবীর মো. মতিউর রহমানের ছেলে মো. কালু ওরফে কাল্লু (৪০), তার অন্যতম সহযোগী একই এলাকার কবির হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ ওরফে নাগিন সোহাগ (৩২), সীমান্তবর্তী এজেন্ট সাতক্ষীরার দেবহাটার আকিমুদ্দিন মোড়ালের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন (৪১)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, এই চক্রটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে নারী ও তরুণীদের পাচার করতো। তারা পার্শ্ববর্তী (ভারত) দেশে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করতো।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তাদের মূল টার্গেট ছিল দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত তরুণী। কাল্লু ও সোহাগ ছাড়াও দেশেও ২০-২৫ জন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল সীমান্তবর্তী এলাকার সমন্বয়ক।

র‌্যাব জানায়, পাচার চক্রের নারী সদস্যও রয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত যৌনবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যেই ভিকটিমদের পাচার করা হতো বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়। চক্রটি ঢাকার মিরপুর, তেজগাঁও, গাজীপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের পাঞ্জীপাড়া যৌন পল্লীতে এক তরুণীকে বিক্রি করা হয়। ভিকটিমের ‘মা’ ওই যৌনপল্লী হতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় তার মেয়েকে মুক্ত করে নিয়ে আসে।

র‌্যাব জানায়, কাল্লু রাজধানীর পল্লবী এলাকার চিহ্নিত মানব পাচারকারী ও সিন্ডিকেটের মূল হোতা। সে ৮/১০ বছর যাবৎ মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত। সিন্ডিকেটটি প্রায় দুই শতাধিক নারী পাচার করেছে বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়।

গ্রেপ্তারকৃত কাল্লু জানায়, জনপ্রতি ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে পার্শ্ববর্তী দেশের দালালের নিকট বিক্রি করতো।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত