২০১৮ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন আন্দ্রেই লুনিন। কিন্তু এরপর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে তিনি মাঠে ছিলেন মাত্র ২ ঘণ্টা!
আরো হতাশার যে, ২২ বছর বয়সী লুনিনের মাঠে থাকা সেই দুই ঘণ্টাতেও হতাশার হার রিয়ালের।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে কোপা দেল রে-তে তৃতীয় বিভাগের দল আলকোয়ানোর বিপক্ষে হেরে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেই ম্যাচে গোলরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন লুনিন।
রিয়ালের খেলোয়াড় হিসেবে ১১৫২ দিন, ২৭৬৪৮ ঘণ্টা অথবা মিনিটের হিসেবে ১৬৫৮৮৮০ মিনিট কাটিয়েছেন। কিন্তু খেলতে পেরেছেন মাত্র এক ম্যাচ।
ইউক্রেনের এই গোলরক্ষক রিয়ালে যোগ দেওয়ার আগে ইউরোপের বেশকিছু শীর্ষ ক্লাবে খেলারও প্রস্তাব পেয়েছিলেন। যদিও এক নম্বর জার্সি নিয়ে খেলবেন, এমন পরিকল্পনায় ছিলেন না তিনি। তবে তাকে ঘিরে সবারই প্রত্যাশা ছিল বেশি। শেষ পর্যন্ত লুনিন বেছে নেন রিয়ালকেই।
লুনিনের জন্য আসলে রিয়াল সেভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু করেনি। রিয়ালের এই তিন বছরের মধ্যে দুই মৌসুম তিনি ধারে খেলেন লেগানেস এবং রিয়াল ভায়াদোলিদে। সবশেষ মৌসুমে অর্ধেক সময় কাটান রিয়াল ওভিদোতে। বাকি অর্ধেক মৌসুমে জিনেদিন জিদানের দলে থিবো কোর্তোয়ার বিকল্প হয়ে ছিলেন।
ব্যাকআপ গোলরক্ষক হওয়ার পরও জিদান তাকে কোপা দেল রে-তে সেই একটি ম্যাচে সুযোগ দিতে পেরেছিলেন। আর কোনো ম্যাচেই বেলজিয়াম তারকা কোর্তোয়াকে বিশ্রাম না দেওয়ায় সুযোগ মেলেনি লুনিনের।
কোর্তোয়া ক’দিন আগেই রিয়ালের সঙ্গে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। লুনিনের চুক্তি ২০২৪ পর্যন্ত। কোর্তোয়া যেহেতু কোথাও যাচ্ছেন না, এর অর্থ হচ্ছে লুনিনকে সেই দর্শক হয়েই থাকতে হবে রিয়ালে।
২০২০-২১ মৌসুমে কোর্তোয়া রিয়ালের হয়ে সবগুলো লিগ ম্যাচই খেলেছেন। ক্লাব ইতিহাসে মাত্র সপ্তম গোলরক্ষক হিসেবে এই নজির গড়েন তিনি। অন্যদিকে লুনিন ২০০৯-১০ মৌসুমে জার্জি দুদেকের পর মাত্র দ্বিতীয় গোলরক্ষক যিনি কোনো লিগ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
এরপরও লুনিন আলকোয়ানোর বিপক্ষে পাওয়া সেই সুযোগের জন্য খুশিই থাকতে পারেন। কারণ সেই সুবাদেই রিয়ালের দ্বিতীয় গোলরক্ষক হয়েও মৌসুমে কোনো ম্যাচ না খেলাদের তালিকায় তার নাম যোগ হয়নি।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ভিলদা, ১৯৬০-৬১ মৌসুমে হুয়ান অলোনসো, ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে অগাস্টিন/হোসে ম্যানুয়েল এবং ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে জারো একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি রিয়ালের হয়ে।
