অর্থ আত্মসাৎকারী বানকোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান

বানকো ফাইন্যান্সকে লেনদেন চালুর অনুমতি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২১, ১১:৫৯ পিএম

গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের দায়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান বানকো সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান জেলে রয়েছেন। গ্রাহকদের প্রায় ৬৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেও দুই মাসেও প্রতিষ্ঠানটি তা ফেরত দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বানকো সিকিউরিটিজ ও এর পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের শেয়ার লেনদেন চালুর অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বন্ধ থাকা ব্যাংক হিসাবও চালু করতে ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছে। গত ১৯ আগস্ট এমন নির্দেশনা দিয়েছে এসইসি।

গ্রাহকদের স্বার্থেই অর্থ আত্মসাৎ করা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে এসইসি জানিয়েছে। অবশ্য এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব চালুর বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন এসইসির কমিশনার মো. আবদুল হালিম।

এ প্রসঙ্গে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে জানান, গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের প্রায় ১১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। আর বানকো ফাইন্যান্সের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবেও প্রায় একই পরিমাণের অর্থ রয়েছে। ব্যাংক হিসাব বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সবকিছু বিবেচনা করে শুধু গ্রাহকদের লেনদেন চালু ও অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাব থেকে বানকো ফাইন্যান্স নিজস্ব প্রয়োজনে কোনো টাকা ব্যয় করতে পারবে না। আর অর্থ উত্তোলন ও শেয়ার লেনদেনের পুরো বিষয়টি নজরদারি করতে ডিএসইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসইসি জানিয়েছে, বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানটির কাছে তাদের পড়ে থাকা অর্থের বিপরীতে ২০ শতাংশ সুদ দাবি করছেন। গ্রাহকরা দাবি করছেন, বর্তমানের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বিনিয়োগ করলে লাভবান হতে পারতেন। তাই অর্থ ফেরতের জন্য চাপ দিচ্ছেন তারা।

গত ৭ জুন বানকো সিকিউরিটিজে বিশেষ পরিদর্শন করে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ঘাটতি পান ডিএসইর কর্মকর্তারা। ঘাটতি সমন্বয় করতে বলা হলেও ব্রোকারেজ হাউজের মালিকপক্ষ ব্যর্থ হয়। ওই অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা করে প্রতিষ্ঠানটি যাতে গ্রাহকের কোনো শেয়ার বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিতে না পারে সেজন্য গত ১৪ জুন বানকো সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই। একই দিনে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ করে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মতিঝিল থানায় অভিযোগ দায়ের করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায় ডিএসই। বিষয়টি তদন্তের জন্য দুদকে পাঠায় মতিঝিল থানা।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ না করেই গত ২৯ জুন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক হন বানকো সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আবদুল মুহিত। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার পরও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে লন্ডন যাওয়ার পথে তাকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। সেদিনই আবদুল মুহিতসহ প্রতিষ্ঠানটির আরও পাঁচ পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয়ে অপরাধমূলক বিশ^াসভঙ্গের মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরদিন আবদুল মুহিতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এখনো তিনি জেলে রয়েছেন।

গত ৭ জুলাই বিনিয়োগকারীদের ৬৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বানকো সিকিউরিটিজ ও এর পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এমন পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক হিসাব স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে বানকো সিকিউরিটিজ, বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সুব্রা সিস্টেমস, সুব্রা ফ্যাশনস, বানকো পাওয়ার, বানকো এনার্জি জেনারেশন, বানকো স্মার্ট সলিউশন, ক্ল্যাসিক ফুড ল্যাব, অ্যামুলেট ফার্মাসিউটিক্যালস ও সামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত