ফখরুল বললেন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি করছে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২১, ০৩:০৬ এএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘সরকার হঠাৎ করে কঠোর লকডাউন তুলে নিয়েছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভয়ংকর ক্ষতি করছে।’

গতকাল সোমবার দুপুরে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বিএনপি পরিচালিত কভিড-১৯ হেল্প সেন্টারের জন্য ওষুধসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

‘টিকা নিয়ে তেলেসমাতি চলছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সরকার সব দিক দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে না পারলেও দুর্নীতি ঠিকই করছে। মিথ্যা অপপ্রচার ও ভুল তথ্য দিয়ে পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে ১৩ কোটি টিকা দরকার হয়। তাহলে ২৬ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। আনে ২ লাখ, ৩ লাখ, ১ লাখ। তাও আবার দান, অনুদান আসে।’

তিনি বলেন, ‘চীন ও রাশিয়া প্রথম দিকে এখানে টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। তখন সরকার নেয়নি। কেন নেয়নি? তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতম ইতিহাসের সর্বোচ্চ সম্পর্ক যাদের সঙ্গে আরকি। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। যে চুক্তিটা সম্পূর্ণ জনবিরোধী। সেই টিকার দাম বেশি, আবার টিকার অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেরাম থেকে সম্ভবত ১ কোটি ২০ লাখ টিকা এসেছিল আর কোনো টিকা আসেনি। এখন চীনের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছে। আমরা পত্রিকায় দেখলাম যে, এখানে টিকা বোতলজাত করবে। আমি জানি না এ চুক্তির ভেতরে ডিটেলস কী আছে, কখন শুরু করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার কথা হলো চীনের টিকাই যদি নিতে হয়, ওইটাই যদি উৎপাদন করতে হয় তাহলে প্রথমে করলেন না কেন? একটা বিশেষ প্রাণী যখন পানি খায় ঘোলা করে। এরা হচ্ছে সেই প্রাণী, যারা ঘোলা করে খায়।’

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গোটা দেশের মানুষ যখন করোনার টিকা ও জীবন-মৃত্যু নিয়ে লড়ছে সেই সময়ে তারা এটাকে ডাইভার্ট করে দিতে চান বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চান। আমি মনে করি ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিবর্জিত। একইভাবে ওরা শহীদ জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেই চলেছে। বন্ধ হচ্ছে না, চলছেই।’

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। জিয়া পরিষদের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আবু জাফর খান, দেলোয়ার হোসেন, শহীদুল ইসলাম, নীলিমা রহমান লিলি, নুরুন নবী, ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত