সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের খুরশিদ মহল ব্রিজ থেকে টোক পর্যন্ত সড়কটি। অসংখ্য খানাখন্দের কারণে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।
বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকেরা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই সড়ক ব্যবহারকারী প্রায় ২৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
গফরগাঁওয়ের খুরশিদ মহল ব্রিজের নিচ থেকে গাভিশিমুল, লামকাইন হয়ে টোক পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক।
উপজেলা সদরের সঙ্গে পাঁচবাগ ও টাঙ্গাবর ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে সড়কটি। গফরগাঁও থেকে গাজীপুরের কাপাসিয়া হয়ে সহজে ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এটি।
এ ছাড়া সড়কটি পার্শ্ববতী কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে।
গফরগাঁও উপজেলার পাচঁবাগ ও টাঙ্গাবর ইউনিয়নের অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষের কাছে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
সড়কটির বেশির ভাগেরই এখন বেহাল দশা। বৃষ্টির পানিতে অনেক জায়গায় ডোবা ও নালায় পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
১৯৯৬ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নের নির্মাণের পর থেকে সড়কটির সংস্কার ও মেরামত কাজ করা হয়নি।
এলাকার বয়োবৃদ্ধ হোসেন আলী জানান, দীর্ঘ প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে সড়কটি ভাঙা। সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি পাকা সড়ক নাকি কাঁচা মাটির সড়ক। সড়কটি দিয়ে বর্ষার সময় পায়ে হেঁটে যেতেও কষ্ট হয়।
এলাকার কৃষক শাবান আলী বলেন, এই রাস্তার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য গফরগাঁওয়ে নিয়ে বিক্রি করতে পারি না এবং কোনো পাইকার বাড়িতেও আসে না। তাই ধান ও অন্যান্য কৃষি পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছি না।
এলাকার বাসিন্দা রুমেছা খাতুন জানান, খারাপ রাস্তার কারণে কেউ অসুস্থ হলে গফরগাঁও অথবা হোসেনপুর হাসপাতালে নিতে অনেক কষ্ট করতে হয়।
সড়কের মাঝখানে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়ে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্তমানে বালুবাহী লরি ও সিএনজি ছাড়া অন্য কোনো যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সিএনজি চালক মো. রাতুল বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টের। গাড়ির চাকা ভেঙে যায়, প্রায়ই সিএনজি উল্টে যায় ও ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়।
স্থানীয় এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল জানান, সড়ক সংস্কার ও মেরামতের জন্য একাধিকবার ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তিনি আবারও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাগিদ দেবেন।
মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সড়কটি অনেক পুরোনো এবং দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার হয়নি। প্রাথমিকভাবে সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হবে। সেই সঙ্গে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে অতিদ্রুত সড়কটি নতুন করে নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
