টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন অফিসে আসছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। পচা পানির গন্ধে অফিসে বসে কাজ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনের চত্বর ও ওই সংলগ্ন বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের সামনের ছোট পুকুরটি কানায় কানায় পূর্ণ। তাই পরিষদ চত্বরের পানি যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। ওই ভবনে রয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস, কৃষি প্রশিক্ষণ মিলনায়তন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস, সমবায় অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ একাধিক সরকারি অফিস।
নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, একটু বৃষ্টি হলেই ভবনের সামনে হাঁটুপানি জমে। জলাবদ্ধতায় তাদের যাতায়াতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পানি নিষ্কাশনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কাটছে না জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকায় পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
বাইমহাটি গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম শেলি বলেন, ‘একটি ড্রেন না থাকায় একাধিক সরকারি অফিসের সামনে দিনের পর দিন হাঁটু পানি জমে থাকছে। এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।’
মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের সামনে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ড্রেন নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
