ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ওপর লাঠি চার্জের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ফুলবাড়ীয়া কেশরগঞ্জ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, সোমবার (৩০ আগস্ট) গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার সময় কেশরগঞ্জ বাজারের রাস্তায় যানজটে আটকা পড়েন ইউএনও আশরাফুল সিদ্দিক। এ সময় ইউএনওর গাড়ি থেকে আনসার সদস্যরা নেমে বাজারের ফুটপাত দখলমুক্ত করার অজুহাতে অতর্কিত অভিযান শুরু করেন এবং বেশ কিছু দোকানদার ও পথচারীর ওপর লাঠি চার্জ করে।
অভিযোগকারীরা বলেন, এ সময় দোকানিদের সামনে থাকা মোটরসাইকেল, চা স্টলের কেটলি, গ্লাস, মনোহারী দোকানের মালামাল, হোটেলের জ্বলন্ত গ্যাস সিলিন্ডার লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে একটি জুয়েলারি দোকানের সামনে পথচারীর মোটরসাইকেল রাখার অজুহাত তুলে জুয়েলারি দোকান কর্মচারী ও পথচারীদের ওপর লাঠি চার্জ করা হয়। বেপরোয়া লাঠি চার্জ ও নির্যাতনে বাদীহাটী এলাকার চা দোকানি রাসেদ (৩০) রক্তাক্ত জখম হয়। এভাবে প্রায় ২০/২৫ মিনিটে অন্তত ১০/১৫ দোকানি ও দোকান কর্মচারী আহত হয়। এ ঘটনা ফেইসবুকে ভাইরাল হয়।
তাদের অভিযোগ, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে কেশরগঞ্জ বাজার মালিক সমিতি মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে এলাকাবাসীসহ প্রায় দু শ ব্যবসায়ী অংশ নেয়। মানববন্ধনে ইউএনওর বিরুদ্ধে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানায় বাজারের ব্যবসায়ীরা।
কেশরগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সার্জেন্ট (অব.) আ. খালেক বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ইউএনওর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিচার না হলে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে এবং সব দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ইউএনও আশরাফুল ছিদ্দিক বলেন, প্রতিনিয়ত আমরা যানজট নিরসনে কাজ করি। প্রকৃতপক্ষে লাঠি চার্জ ও নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি। একটি মিথ্যা ইস্যুতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
